মার্কিন ক্রিপ্টো নীতি ও বন্ড ক্রয়ে বাড়ল বিটকয়েনের দাম
অর্থনীতি ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রে ডিজিটাল মুদ্রা বা ক্রিপ্টোকারেন্সি সম্পর্কিত প্রস্তাবিত নতুন আইন পাসের ইতিবাচক সম্ভাবনা এবং মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের বন্ড পুনঃক্রয় দ্বিগুণ করার সিদ্ধান্তে আন্তর্জাতিক বাজারে বিটকয়েনের দামে বড় ধরণের উল্লম্ফন ঘটেছে।
শুক্রবার বিশ্ববাজারে শীর্ষ ডিজিটাল মুদ্রা বিটকয়েনের দর ৬ দশমিক ৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৭৭ হাজার ৬৭৫ দশমিক ৯৪ মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বুধবার থেকে শুরু করে শুক্রবার পর্যন্ত মাত্র তিন দিনের ব্যবধানে বিটকয়েনের বাজারমূল্য ২০ শতাংশের বেশি বেড়েছে। পরপর তিন দিন ধরে মুদ্রাটির দর প্রতিনিয়ত ৫ শতাংশের বেশি হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে।
বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, এই রেকর্ড দরবৃদ্ধির পেছনে প্রধান অনুঘটক হিসেবে কাজ করেছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্য। গত বুধবার মার্কিন কংগ্রেসে আটকে থাকা 'ক্ল্যারিটি অ্যাক্ট' নামক ক্রিপ্টোকারেন্সি নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবহার সংক্রান্ত আইনটি দ্রুত পাসের উদাত্ত আহ্বান জানান তিনি। এই আইনি কাঠামো বাস্তবায়িত হলে ক্রিপ্টো খাতে স্বচ্ছতা ও স্থায়িত্ব আসবে—এমন আশাবাদ তৈরি হওয়ায় বিশ্বজুড়ে বিনিয়োগকারীরা নতুন করে বাজারে ঝুঁকছেন।
এর পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি ঋণের সুদের হার কমানোর কৌশল হিসেবে মার্কিন ট্রেজারি ডিপার্টমেন্ট সরকারি বন্ড পুনঃক্রয়ের পরিমাণ দ্বিগুণ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। এর ফলে ট্রেজারি বন্ড থেকে বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ বা মুনাফার পরিমাণ কিছুটা কমে যাওয়ায় তাঁদের মূলধন স্থানান্তরিত হচ্ছে বিটকয়েনের মতো ঝুঁকিপূর্ণ অথচ উচ্চ-মুনাফাযুক্ত ডিজিটাল সম্পদে।
ডিজিটাল সম্পদ বিনিময়কারী সংস্থা ‘ইটোরো’-র মার্কিন শাখার সিনিয়র বিনিয়োগ বিশ্লেষক ব্রেট কেনওয়েল এ বিষয়ে মন্তব্য করে জানান, ওয়াশিংটনে নিয়মতান্ত্রিক ক্রিপ্টো কাঠামোর ইতিবাচক অগ্রগতির খবর বিটকয়েনের মূল্য বৃদ্ধিতে জ্বালানি হিসেবে কাজ করেছে। ট্রেজারি ইয়িল্ড কমে যাওয়ার পাশাপাশি শর্ট পজিশন বন্ধ হয়ে যাওয়ার ধারাবাহিক প্রক্রিয়াই বিটকয়েনের এই 'র্যালি'কে শক্তিশালী গতি এনে দিয়েছে।
|