প্যালেস্টাইন অ্যাকশনের কর্মীদের বিষয়ে যুক্তরাজ্যের আদালতের গুরুত্বপূর্ণ রায়
যুক্তরাজ্যে ইসরায়েলবিরোধী ও ফিলিস্তিনপন্থি সংগঠন 'প্যালেস্টাইন অ্যাকশন'-এর পাঁচজন সদস্যকে কঠোর সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আওতায় সাজা দেওয়া যাবে না বলে চূড়ান্ত রায় দিয়েছেন দেশটির একটি আদালত।
শুক্রবার (২১ আগস্ট) ইংল্যান্ডের প্রেস্টন ক্রাউন কোর্টের প্রধান বিচারক রবার্ট আলথাম এই রায় প্রদান করেন। আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
মামলার পটভূমি ও অভিযোগ:
মামলার এজাহার অনুযায়ী, ২০২৪ সালের আগস্ট মাসে ইংল্যান্ডের ল্যাঙ্কাশায়ারের বার্নলি শহরের ‘বার্কলেস ব্যাংক’-এর একটি শাখায় প্রবেশ করে প্রায় ২ লাখ ১২ হাজার পাউন্ডের (প্রায় ২ লাখ ৯০ হাজার ডলার) সম্পদ ক্ষতিগ্রস্ত করার অভিযোগ ওঠে এই আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে।
ইসরায়েলি অস্ত্র প্রস্তুতকারী মূল প্রতিষ্ঠান ‘এলবিট সিস্টেমস’-এর সঙ্গে ওই ব্যাংকের বিনিয়োগ ও শেয়ার অংশীদারিত্বের প্রতিবাদেই মূলত তারা এই বিক্ষোভ পরিচালনা করেছিলেন। পরবর্তীতে গত জুনে আদালতের জুরি বিচারে তাদের দোষী সাব্যস্ত করা হয়।
অভিযুক্ত পাঁচ কর্মী হলেন— ২৮ বছর বয়সী ব্রেন্ডন ও’হেগান, ৩১ বছর বয়সী আমান্ডা কেলি, ৩১ বছর বয়সী হমিরা আতিকনিসার, ২৮ বছর বয়সী মোহাম্মদ মালিক এবং ৭০ বছর বয়সী আলমা ইয়ানিভ।
আদালতের যুক্তি ও প্রতিক্রিয়া:
রায় ঘোষণার সময় প্যালেস্টাইন অ্যাকশনকে আনুষ্ঠানিকভাবে 'সন্ত্রাসী সংগঠন' হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়নি। এর ফলে জুরি সদস্য বা আসামিরা জানতেন না যে সাধারণ ক্ষয়ক্ষতির এই মামলায় পরবর্তীতে কঠোর 'সন্ত্রাসবিরোধী আইন' যুক্ত করার চেষ্টা করা হতে পারে।
বিচারক পুরো বিষয়টি পর্যালোচনা শেষে রায় দেন যে, সংঘটিত এই রাজনৈতিক প্রতিবাদ ও ক্ষয়ক্ষতির সঙ্গে কোনো সরাসরি 'সন্ত্রাসী যোগসূত্র' নেই। ফলে তাদের সাধারণ ফৌজদারি অপরাধে সাজা দেওয়া হলেও সন্ত্রাসী হিসেবে দণ্ডিত করা যাবে না।
আদালতের এই সিদ্ধান্তের পর বাইরে সমবেত হওয়া শতো শতো সমর্থক ও মানবাধিকার কর্মী উল্লাসে ফেটে পড়েন। মামলাটিতে যুক্ত থাকা পাঁচ কর্মীর একজন মোহাম্মদ মালিকের মা আল জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, "এটি শুধু আমাদের নয়, এটি ফিলিস্তিনের বিজয় এবং গণতান্ত্রিক সমাজে স্বাধীনভাবে প্রতিবাদ জানানোর অধিকারের এক বিশাল জয়।"
আগামী ৪ সেপ্টেম্বর এই মামলায় দণ্ডপ্রাপ্তদের চূড়ান্ত সাজা ঘোষণা করার কথা রয়েছে।
|