মেঘনা নদীতে গুলিতে জেলে নিহত
বিশেষ প্রতিনিধি: বরিশালের হিজলা উপজেলার মেঘনা নদীতে গুলিতে আক্তার হোসেন (৪০) নামের এক জেলে নিহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) ভোর পৌনে ৫টার দিকে উপজেলার হিজলা-গৌরবদী ইউনিয়নের ওরাকুল এলাকায় এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নিহত আক্তার হোসেন হিজলা উপজেলার মেমানিয়া ইউনিয়নের সুলতান হাওলাদারের ছেলে। তাঁর স্ত্রী, দুই ছেলে ও চার মেয়ে রয়েছে।
নিহতের স্বজন ও সহকর্মী জেলেদের অভিযোগ, মা ইলিশ রক্ষায় অভিযান চলাকালে নৌ পুলিশের গুলিতে আক্তারের মৃত্যু হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শী জেলে মো. আব্দুল বেপারী জানান, ভোরে ১৩ জন জেলে মেঘনার ওরাকুল এলাকায় মাছ ধরছিলেন। এ সময় নৌ পুলিশের একটি বোট তাঁদের ধাওয়া করে এবং গুলি চালায়। গুলির শব্দে অন্যরা শুয়ে পড়লেও বুকে গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান আক্তার। তিনি আরও জানান, ঘটনাস্থল থেকে কিছু দূরে অপর একটি নৌকা থেকে ১০-১২ জন জেলেকে আটক করে নিয়ে যায় চাঁদপুর নৌ পুলিশ। এ থেকেই তাঁদের ধারণা, চাঁদপুর নৌ পুলিশের গুলিতেই এই প্রাণহানি ঘটেছে।
ঘটনার বিষয়ে হিজলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোলায়মান জানান, নিহতের মরদেহে গুলির চিহ্ন রয়েছে এবং ময়নাতদন্তের জন্য তা বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে। তবে ঠিক কার গুলিতে তিনি নিহত হয়েছেন, তা এখনো নিশ্চিত করা যায়নি।
হিজলা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা কে এম মাহফুজুর রহমান জানান, সকালে জেলে নিহত হওয়ার খবর পেলেও মৎস্য অধিদপ্তরের কোনো দল ওই সময় নদীতে অভিযানে ছিল না। অন্য কোনো জেলার টিম সেখানে অভিযান চালিয়ে থাকতে পারে।
এদিকে বরিশাল নৌ পুলিশের পুলিশ সুপার এস এম নাজমুল হক জানান, জেলে নিহত হওয়ার খবর তাঁরা শুনেছেন, তবে বরিশাল নৌ পুলিশের পক্ষ থেকে ওই এলাকায় কোনো অভিযান চালানো হয়নি। চাঁদপুর নৌ পুলিশের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়েও তাঁরা কিছু জানেন না।
ময়নাতদন্ত ও সার্বিক তদন্তের পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং ঘটনার দায় কার, তা পরিষ্কার হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এআইএল/সকালবেলা