গৌরব ও ঐতিহ্যের ৫০ বছর: মিলনমেলায় সম্পন্ন হলো কলমাকান্দা ফাজিল মাদ্রাসার সুবর্ণজয়ন্তী

প্রকাশ: মঙ্গলবার, ০২ জুন ২০২৬, ০৮:১৭ অপরাহ্ণ
গৌরব ও ঐতিহ্যের ৫০ বছর: মিলনমেলায় সম্পন্ন হলো কলমাকান্দা ফাজিল মাদ্রাসার সুবর্ণজয়ন্তী
এক মঞ্চে অতিথি ও গুণীজন, প্রাঙ্গণজুড়ে সাবেক শিক্ষার্থীদের আবেগঘন উপস্থিতি

অনলাইন ডেস্ক: সুদীর্ঘ ৫০ বছরের গৌরব ও ঐতিহ্যের পথচলা উদযাপন করতে নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার অন্যতম শীর্ষ দ্বীনি ও আধুনিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ‘কলমাকান্দা আল-জামিয়াতুল ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসা’ প্রাঙ্গণে বসেছিল স্মৃতি ও মেলবন্ধনের মহা-উৎসব। গত ২৯ মে (শুক্রবার) অত্যন্ত সাড়ম্বরে ও উৎসবমুখর পরিবেশে প্রতিষ্ঠানটির ঐতিহাসিক সুবর্ণজয়ন্তী ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের পুনর্মিলনী উৎসব সম্পন্ন হয়েছে। মাদ্রাসার প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের সংগঠন ‘অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন’-এর চমৎকার ব্যবস্থাপনায় দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির মাধ্যমে এই মিলনমেলা উদযাপিত হয়।


১৯৭৫ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে অত্র অঞ্চলের শিক্ষা ও সংস্কৃতির আলো ছড়াতে অনন্য ভূমিকা রেখে চলা এই বিদ্যাপীঠের ঐতিহাসিক মাহেন্দ্রক্ষণকে স্মরণীয় করে রাখতে ১ হাজারেরও বেশি প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থী রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করে উৎসবে যোগ দেন। দীর্ঘ সময় পর পুরোনো বন্ধুদের ফিরে পাওয়া এবং শৈশব-কৈশোরের স্মৃতিবিজড়িত আঙিনায় হারিয়ে যাওয়ার ব্যাকুলতায় মুখর ছিলেন সবাই।


সকাল ৯টায় মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে বর্ণাঢ্য উদ্বোধনের মাধ্যমে উৎসবের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। সুবর্ণজয়ন্তী বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক ও মাদ্রাসার সহকারী অধ্যাপক মাওলানা মো. আবুল হাসেমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের মাননীয় ডেপুটি স্পিকার ও নেত্রকোনা-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। পুরো অনুষ্ঠানটি যৌথভাবে সঞ্চালনা করেন সহকারী অধ্যাপক মাওলানা মোস্তফা কামাল ও জনাব এনামূল হক তালুকদার।


অনুষ্ঠানে সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে আয়োজিত বিশেষ আলোচনা সভায় বক্তারা মাদ্রাসার সুদীর্ঘ ৫০ বছরের অবদান ও ঐতিহ্য তুলে ধরেন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল মাদ্রাসার কৃতি শিক্ষার্থীদের উদাহরণ টেনে বর্তমান শিক্ষার্থীদের সততা, অধ্যবসায় ও সঠিক আদর্শ অনুসরণ করে আধুনিক কলমাকান্দা-দুর্গাপুর গড়ার আহ্বান জানান। তিনি এই মাদ্রাসা প্রাঙ্গণের সঙ্গে তাঁর নিজের ও প্রয়াত বাবার গভীর পারিবারিক ও আত্মিক সম্পর্কের কথা স্মরণ করে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন এবং বাবার পক্ষ থেকে সম্মাননা ক্রেস্ট গ্রহণ করেন।


মিলনমেলায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য নাজমুন নাহার নীলু, নেত্রকোনার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) জনাব মুন মুন জাহান লিজা এবং কলমাকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস. এম. মিকাইল ইসলাম।


এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষাবোর্ডের উপ-পরিদর্শক-১ মো. আকরাম, কলমাকান্দা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ সুকুমার চন্দ্র বণিক, এন আকন্দ কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মো. আব্দুল বাতেন, উপজেলা বিএনপির সভাপতি এম. এ. খায়ের, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আবুল হাসেম এবং উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল বারী চান মিয়াসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।


অনুষ্ঠানের অন্যতম বিশেষ আকর্ষণ ছিল এই মাদ্রাসারই সাবেক দুই কৃতি শিক্ষার্থী— গোপালগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. হাবীবুল্লাহ (জুয়েল) এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের অতিরিক্ত কমিশনার (কাস্টমস) মো. মিজানুর রহমানের উপস্থিতি। দেশের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে নিয়োজিত এই দুই প্রাক্তন শিক্ষার্থীর গৌরবময় উপস্থিতি বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীদের মাঝে ব্যাপক অনুপ্রেরণা জোগায়।


দিনব্যাপী এই ঐতিহাসিক উৎসবে সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের ব্যাপক আবেগঘন স্মৃতিচারণ পর্ব ছাড়াও কৃতি ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের বিশেষ সংবর্ধনা প্রদান করা হয়। একই সঙ্গে মাদ্রাসার সাবেক ও অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বিশেষ সম্মাননা স্মারক বা ক্রেস্ট দেওয়া হয়, যা চেনা প্রাঙ্গণে এক আবেগঘন আবহের সৃষ্টি করে। কর্মসূচির শেষাংশে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে এই ঐতিহাসিক মিলনমেলার সমাপ্তি ঘটে। 


মাদ্রাসা সংশ্লিষ্ট ও এলাকাবাসী আশা প্রকাশ করেন, এই সুবর্ণজয়ন্তী উৎসব কেবল একটি অনুষ্ঠান নয়, বরং এটি প্রতিষ্ঠানের গৌরবময় অতীতকে শ্রদ্ধা জানানোর এবং ভবিষ্যৎ পথচলাকে আরও সমৃদ্ধ করার ক্ষেত্রে আগামী প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।