কোরআনে বর্ণিত নবী-রাসুলদের মায়েরা

প্রকাশ: রবিবার, ১০ মে ২০২৬, ০২:৩৬ অপরাহ্ণ
কোরআনে বর্ণিত নবী-রাসুলদের মায়েরা

সন্তান বড় করার পেছনে একজন মায়ের আত্মত্যাগ ও ধৈর্য অপরিসীম। পবিত্র কোরআনুল কারিমে বেশ কয়েকজন নবী ও রাসুলের মায়ের কথা গুরুত্বের সঙ্গে বর্ণিত হয়েছে। তাঁদের জীবন ও ঘটনা থেকে আল্লাহর প্রতি অগাধ বিশ্বাস এবং ধৈর্যের এক অনন্য শিক্ষা পাওয়া যায়।

ইবরাহিম (আ.) যখন আল্লাহর নির্দেশে বিবি হাজেরা ও শিশুপুত্র ইসমাইলকে নির্জন মরু প্রান্তরে রেখে এসেছিলেন, তখন হাজেরা (আ.) আল্লাহর ওপর পূর্ণ ভরসা রেখেছিলেন। তাঁর সেই ধৈর্য ও বিশ্বাসের বিনিময়ে আল্লাহ তাঁদের জন্য জমজম কূপ এবং ফলমূলের রিজিকের ব্যবস্থা করেন। কোরআনে মুসা (আ.)-এর মায়ের কথা বিশেষভাবে এসেছে। ফেরাউনের হাত থেকে সন্তানকে বাঁচাতে আল্লাহর নির্দেশে তিনি নিজের কলিজার টুকরোকে নদীতে ভাসিয়ে দিয়েছিলেন। আল্লাহর ওপর তাঁর এই অবিচল আস্থার কারণেই মুসা (আ.) আবার মায়ের কোলে ফিরে আসেন এবং ফেরাউনের প্রাসাদেই বড় হন।জাকারিয়া (আ.)-এর স্ত্রী বৃদ্ধ বয়সে এবং বন্ধ্যা হওয়া সত্ত্বেও আল্লাহর কৃপায় ইয়াহইয়া (আ.)-কে গর্ভে ধারণ করেন। আল্লাহ তাঁদের দোয়া কবুল করে তাঁর স্ত্রীকে সন্তান লাভের জন্য উপযুক্ত করে তুলেছিলেন।ইমরান (আ.)-এর স্ত্রী হাননাহ তাঁর অনাগত সন্তানকে আল্লাহর ইবাদতের জন্য উৎসর্গ বা মানত করেছিলেন। সেই উৎসর্গীকৃত সন্তানই ছিলেন মারইয়াম (আ.), যিনি পরবর্তীতে ঈসা (আ.)-এর জননী হওয়ার মর্যাদা লাভ করেন। বিবি মারইয়াম ছিলেন বিশ্বের নারীদের জন্য এক অনন্য নিদর্শন। কোনো পুরুষ স্পর্শ ছাড়াই আল্লাহর কুদরতে তিনি ঈসা (আ.)-কে গর্ভে ধারণ করেন। প্রসবকালীন ও পরবর্তী সময়ে সমাজ ও মানুষের অপবাদের মুখে তাঁর ধৈর্য এবং আল্লাহর অলৌকিক সুরক্ষা কোরআনের সুরা মারইয়ামে বিস্তারিত বর্ণিত হয়েছে।

পবিত্র কোরআনের এই বর্ণনাগুলো আমাদের শেখায় যে, সন্তানের সুন্দর ভবিষ্যৎ গঠনে মায়ের দোয়া এবং আল্লাহর ওপর নির্ভশীলতার কোনো বিকল্প নেই।

জান্নাত/সকালবেলা

মন্তব্য করুন