চেক প্রজাতন্ত্রের মুসলিমদের বর্তমান পরিস্থিতি
চেক প্রজাতন্ত্রে ইসলামকে একটি ধর্ম হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হলেও, মুসলিমরা অন্যান্য ধর্মের মতো মৌলিক সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত। নিজস্ব ধর্মীয় স্কুল প্রতিষ্ঠা, আইনগতভাবে স্বীকৃত বিয়ে বা জনসমক্ষে ধর্মীয় অনুষ্ঠান করার অধিকার তাদের নেই। দেশটির উগ্র ডানপন্থী রাজনীতিবিদেরা অভিবাসীদের প্রতি ভীতি ছড়িয়ে নিজেদের রাজনৈতিক ফায়দা হাসিল করছে, যেখানে ইসলাম ও মুসলিমদের প্রধান লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে।
দেশটির বিভিন্ন মসজিদে নিয়মিত হামলার ঘটনা ঘটছে। ২০২০ সালে ব্রনোর একটি মসজিদের দেয়ালে মুসলিমদের মেরে ফেলার হুমকি লিখে দেওয়া হয়েছিল। এর আগে মসজিদের দরজায় শুকরের মাংস ঝোলানো, জানালা ভাঙচুর এবং পোড়া তেল স্প্রে করার মতো ঘৃণ্য ঘটনা ঘটেছে। ২০১৪ সালে মার্টিন কনভিকা নামের এক ইসলামবিদ্বেষী মসজিদের সামনে পবিত্র কোরআন শরিফে আগুন ধরিয়ে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি করেছিলেন।
প্রাগের মুসলিম কমিউনিটি অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য ভ্লাদিমির সানকা জানান, এখানকার মুসলিমরা সাধারণত ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার বা আইটি বিশেষজ্ঞ। তবুও কিছু রাজনৈতিক দলের বিদ্বেষী প্রচারণার কারণে তারা মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। ক্রমবর্ধমান এই অসহিষ্ণুতার কারণে অনেক মুসলিম বাধ্য হয়ে আয়ারল্যান্ড বা ফ্রান্সের মতো দেশে পাড়ি জমাচ্ছেন।
বিশেষ করে হিজাব বা নিকাব পরিহিত নারীরা এই আক্রোশের প্রধান শিকার হচ্ছেন। রাস্তাঘাটে লাঞ্ছনা, থুতু দেওয়া বা উত্যক্ত করার ঘটনা অহরহ ঘটছে। যদিও একাডেমিক বা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশে বিদ্বেষ কম, কিন্তু গণপরিসর বা রাস্তায় মুসলিমদের নিরাপত্তা অত্যন্ত নাজুক অবস্থায় রয়েছে।
দেশটির তৎকালীন প্রেসিডেন্ট মিলোস জেমান বিভিন্ন সময়ে অভিবাসী ও শরণার্থীদের বিরুদ্ধে বিষোদগার করেছেন, যা সাধারণ মানুষের মনে মুসলিমদের প্রতি ভয় ও ঘৃণা আরও উসকে দিয়েছে। শরণার্থীদের প্রতি মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি না দেখিয়ে বরং তাদের বিরুদ্ধে ডিটেনশন সেন্টার তৈরি করেছে চেক সরকার।
এই পদ্ধতিগত ও সামাজিক বিদ্বেষের কারণে চেক প্রজাতন্ত্রে মুসলিমদের জীবন এখন হুমকির মুখে। ইসলাম সম্পর্কে সঠিক জ্ঞানের অভাব এবং উগ্র জাতীয়তাবাদের বিষাক্ত প্রভাবে দেশটির মুসলিম কমিউনিটি আজ অস্তিত্বের সংকটে।
জান্নাত সকালবেলা
|