জান্নাতি মানুষের পরিচয়

জান্নাতি মানুষের পরিচয়

মুফতি উমর ফারুক আশিকী: পবিত্র কোরআনের সুরা বাকারার ৫ম আয়াতে আল্লাহ তাআলা সফলকাম বা জান্নাতি মানুষের চূড়ান্ত পরিণতির কথা ঘোষণা করেছেন। ইরশাদ হয়েছে, তারাই তাদের প্রতিপালকের পক্ষ হতে সঠিক পথের ওপর রয়েছে এবং তারাই সফলকাম। মূলত মুত্তাকি বা আল্লাহভীরু মানুষের কিছু বিশেষ গুণের কারণেই তাঁরা এই শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করেছেন।

জান্নাতি মানুষের প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ:

  • ঐশী হেদায়েতের ওপর প্রতিষ্ঠিত: জান্নাতি মানুষরা আল্লাহর পক্ষ থেকে বিশেষ নূর বা হেদায়েতের ওপর অবিচল থাকেন। হযরত ইবনে আব্বাস (রা.)-এর মতে, এটি এমন এক আধ্যাত্মিক শক্তি যা মানুষকে সত্য ও মিথ্যার পার্থক্য বুঝতে সাহায্য করে।

  • অদৃশ্যে বিশ্বাস (ঈমান বিল গায়েব): তাঁরা মহান আল্লাহ, ফেরেশতা, জান্নাত-জাহান্নামসহ অদৃশ্যের সব বিষয়ের ওপর পূর্ণ আস্থা রাখেন।

  • নামাজ কায়েম করা: কেবল নামাজ পড়াই নয়, বরং জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে নামাজের শিক্ষা ও নিয়মাবলি প্রতিষ্ঠা করা তাঁদের অন্যতম গুণ।

  • দানশীলতা: আল্লাহর দেওয়া সম্পদ থেকে তারা অসহায় ও আর্তমানবতার সেবায় ব্যয় করেন।

  • আসমানি কিতাব ও পরকালে বিশ্বাস: নবী কারিম (সা.)-এর ওপর অবতীর্ণ কোরআন এবং পূর্ববর্তী কিতাবসমূহের ওপর বিশ্বাসের পাশাপাশি পরকালের জবাবদিহিতার ব্যাপারে তাঁরা সর্বদা সজাগ থাকেন।

প্রকৃত সফলতা কী?

ইমাম ইবনে জারীর (র.)-এর ব্যাখ্যা অনুযায়ী, কোরআনের ভাষায় ‘ফালাহ’ বা সফলতা কেবল পার্থিব ধন-সম্পদ নয়। প্রকৃত সফল তারাই, যারা আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করে চিরস্থায়ী জান্নাত নিশ্চিত করতে পেরেছে এবং পরকালের কঠিন শাস্তি থেকে নিষ্কৃতি পেয়েছে।

রাসুল (সা.)-এর সুসংবাদ

একদা সাহাবিগণ যখন নিজেদের আমল নিয়ে আশা ও ভয়ের দোলাচলে ছিলেন, তখন রাসুলুল্লাহ (সা.) সুরা বাকারার প্রথম পাঁচটি আয়াত তিলাওয়াত করে তাঁদের আশ্বস্ত করেন। তিনি জানান, এই গুণাবলি যাদের মধ্যে থাকবে, তারাই জান্নাতি।

উপসংহার: জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে আল্লাহর ভয় (তাকওয়া) লালন করা এবং ওহির বিধান মেনে চলাই হলো সফলতার চাবিকাঠি। যারা এই পথে অবিচল থাকবে, দুনিয়াতে তারা লাভ করবে প্রশান্তি আর পরকালে চিরস্থায়ী মুক্তি।

জান্নাত/সকালবেলা

মন্তব্য করুন