দিনাজপুরে ডিজেল সংকট ও লোডশেডিংয়ে বোরো চাষে শঙ্কা

দিনাজপুরে ডিজেল সংকট ও লোডশেডিংয়ে বোরো চাষে শঙ্কা

দিনাজপুর প্রতিনিধি: একদিকে প্রচণ্ড গরম, অন্যদিকে তীব্র লোডশেডিং; তার সঙ্গে মাসাধিককাল ধরে চলমান ডিজেল সংকট—সব মিলিয়ে শস্যভাণ্ডার খ্যাত দিনাজপুর জেলায় বোরো আবাদ নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। ধান গাছের থোড় আসা ও দানা বাঁধার এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে সেচ দিতে না পেরে দিশাহারা হয়ে পড়েছেন জেলার ১৩টি উপজেলার কৃষকেরা।

স্থবির সেচ কার্যক্রম, বাড়ছে খরচ

জেলায় ডিজেলের তীব্র সংকট দেখা দেওয়ায় অধিকাংশ সেচ পাম্প এখন অচল। ফিলিং স্টেশনগুলোতে চাহিদামাফিক তেল মিলছে না, আর খোলা বাজারে সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে লিটারপ্রতি ১৫-২০ টাকা বেশি দামে ডিজেল বিক্রি হচ্ছে। কৃষকদের অভিযোগ, আগে ১০৫ টাকায় পাওয়া ডিজেল এখন ১৩০ টাকায় কিনতে হচ্ছে। এতে বিঘাপ্রতি উৎপাদন খরচ কয়েক গুণ বেড়ে গেছে।

দিনাজপুর সদর উপজেলার কৃষক রেজাউল করিম জানান, ১০ বিঘা বোরো ও ৩০ বিঘা ভুট্টা চাষে প্রতিদিন তাঁর ১২ লিটার ডিজেল প্রয়োজন। কিন্তু পাম্পে দীর্ঘ লাইন দিয়েও পর্যাপ্ত তেল পাওয়া যাচ্ছে না।

লোডশেডিংয়ে অচল বৈদ্যুতিক পাম্প

ডিজেল সংকটের বিকল্প হিসেবে বৈদ্যুতিক পাম্প ব্যবহারের সুযোগও সীমিত হয়ে পড়েছে। তীব্র লোডশেডিংয়ের কারণে দিনের বেশিরভাগ সময় বিদ্যুৎ থাকছে না। বিরল উপজেলার চাষি বেলাল হোসেন জানান, জমিতে পাইপ বিছিয়ে সেচ দেওয়ার প্রস্তুতি নিলেও প্রায়ই বিদ্যুৎ চলে যায়। ফলে বাধ্য হয়ে অনেকে বাড়ির পানির মটর দিয়ে স্বল্প পরিসরে সেচ দেওয়ার চেষ্টা করছেন।

উৎপাদন কমার আশঙ্কা

চলতি মৌসুমে দিনাজপুরে প্রায় ১ লাখ ৭৬ হাজার ৬০০ হেক্টর জমিতে বোরো চাষ হচ্ছে। ধানের শীষ বের হওয়ার এই সময়ে নিয়মিত সেচ নিশ্চিত করতে না পারলে ধান 'চিটা' হয়ে যাওয়ার ভয় পাচ্ছেন চাষিরা। এতে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ফলন অর্ধেকে নেমে আসার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

কৃষি বিভাগের দাবি

অবশ্য মাঠ পর্যায়ের চিত্র ভিন্ন হলেও জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আফজাল হোসেন জানান, জেলায় পর্যাপ্ত ডিজেল মজুত রয়েছে। বোরো রোপণের শুরুতে বৃষ্টি হওয়ায় মাটিতে আর্দ্রতা ছিল, তাই উৎপাদনে বড় ধরনের প্রভাব পড়বে না বলে তিনি দাবি করেন।

তবে কৃষকদের দাবি, দ্রুত জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক না করলে উত্তরাঞ্চলের এই বৃহৎ শস্যভাণ্ডারে খাদ্য নিরাপত্তার সংকট দেখা দিতে পারে।

জান্নাত/সকালবেলা

মন্তব্য করুন