আল্লাহর দেওয়া এক বিশেষ নেয়ামত মাতৃভাষা

আল্লাহর দেওয়া এক বিশেষ নেয়ামত মাতৃভাষা

রাকিব খান: মানুষের জীবনে মাতৃভাষা একটি বড় নেয়ামত। ভাষার মাধ্যমেই মানুষ নিজের মনের কথা বলে, জ্ঞান অর্জন করে, অনুভূতি প্রকাশ করে এবং সমাজ ও সভ্যতা গড়ে তোলে। ইসলামও মাতৃভাষাকে অবহেলা করেনি। বরং কোরআন ও হাদিসে ভাষার ভিন্নতাকে আল্লাহ তাআলার অসীম শক্তির একটি নিদর্শন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, আকাশ ও পৃথিবীর সৃষ্টি যেমন আল্লাহর নিদর্শন, তেমনি মানুষের ভাষা ও বর্ণের পার্থক্যও তাঁর নিদর্শনের অংশ। এর মাধ্যমে বোঝা যায়, বিভিন্ন ভাষা থাকা আল্লাহর দেওয়া বিশেষ দান। তাই মাতৃভাষা শুধু কথা বলার মাধ্যম নয়, এটি মানুষের পরিচয় ও স্বাতন্ত্র্যের চিহ্ন।

কোরআনে আরও বলা হয়েছে, আল্লাহ প্রত্যেক জাতির কাছে তাদের নিজের ভাষাভাষী রাসুল পাঠিয়েছেন, যাতে মানুষ সহজে দ্বীনের কথা বুঝতে পারে এবং বার্তা গ্রহণে কোনো কষ্ট না হয়। এতে প্রমাণ হয়, মানুষের হৃদয়ে কথা পৌঁছানোর সবচেয়ে সহজ উপায় হলো তার নিজের ভাষা। ইসলামের এই শিক্ষা ভাষার প্রতি গভীর সম্মান প্রকাশ করে।

রাসুলুল্লাহ (সা.) নিজ জাতির ভাষায় কথা বলতেন এবং সাহাবিদেরও মানুষের বোঝার মতো সহজ ভাষায় দাওয়াত দিতে উৎসাহিত করতেন। হাদিসে আছে, তিনি সবসময় পরিষ্কার ও সহজভাবে কথা বলতেন, যাতে সবাই সহজে বুঝতে পারে। এখান থেকে শিক্ষা পাওয়া যায়—ভাষা যত সহজ হবে, সত্যের কথা তত দ্রুত মানুষের মনে জায়গা করে নেবে।

মাতৃভাষা মানুষের আবেগ, সংস্কৃতি ও বিশ্বাসের সাথে গভীরভাবে জড়িত। একটি শিশু প্রথম কথা শেখে মাতৃভাষায়, মায়ের ডাক শোনে মাতৃভাষায় এবং নিজের মনের দোয়া-প্রার্থনাও সহজে মাতৃভাষাতেই করে। তাই মাতৃভাষাকে অবহেলা করা মানে নিজের শিকড়কে অবহেলা করা। ইসলাম নিজের পরিচয় রক্ষা করে আল্লাহর পথে চলতে শিক্ষা দেয়।

একই সাথে ইসলাম অন্য ভাষার প্রতিও সম্মান প্রদর্শন করতে বলে। যদিও কোরআন আরবি ভাষায় নাজিল হয়েছে, ইসলাম শুধু আরবদের জন্য নয়—পৃথিবীর সব মানুষের জন্য। তাই নিজের মাতৃভাষাকে ভালোবাসার পাশাপাশি অন্য ভাষা ও সংস্কৃতিকেও সম্মান করা একজন মুসলমানের উত্তম আচরণের অংশ।

আই.এ/সকালবেলা

মন্তব্য করুন