ভিডিও
স্টোরি
ফটো স্টোরি
সমাজ ও রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা নষ্টকারী অন্যতম ব্যাধি চাঁদাবাজিকে ইসলামের দৃষ্টিতে এক ধরনের ডাকাতি ও সরাসরি হারাম হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। ইসলামি আইন ও বিধান অনুযায়ী, অন্যের সম্পদ অন্যায়ভাবে ভোগ করা বা জোরপূর্বক আদায় করা কেবল অপরাধই নয়, বরং এটি একটি যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির কারণ। চাঁদাবাজির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, এর হিসাব রক্ষক এবং গ্রহণকারী—সকলেই এই গুনাহের সমান অংশীদার।
পবিত্র কোরআন ও হাদিসের আলোকে চাঁদাবাজিকে জুলুম ও অত্যাচারের শামিল বলা হয়েছে। আল্লাহ তাআলা পবিত্র কোরআনে ইরশাদ করেছেন, ‘ব্যবস্থা নেওয়া হবে শুধু তাদের বিরুদ্ধে, যারা মানুষের ওপর অত্যাচার চালায় এবং পৃথিবীতে অন্যায়ভাবে বিদ্রোহ করে বেড়ায়। তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।’ (সুরা: আশ-শুরা, আয়াত: ৪২)। এই আয়াত স্পষ্ট করে যে, যারা মানুষের ওপর অন্যায়ভাবে অর্থ বা সম্পদ চাপিয়ে দেয়, পরকালে তাদের জন্য কঠিন আজাব অপেক্ষা করছে।
অন্যের সম্পদ আত্মসাৎ বা চাঁদাবাজির ভয়ানক পরিণতি সম্পর্কে নবী করিম (সা.) তাঁর উম্মতদের সতর্ক করেছেন। সহিহ মুসলিমের এক হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, রাসুল (সা.) সাহাবিদের জিজ্ঞাসা করেছিলেন, ‘তোমরা কি জানো প্রকৃত দরিদ্র কে?’ সাহাবিরা উত্তর দিলে তিনি বলেন, প্রকৃত দরিদ্র সেই ব্যক্তি, যে কিয়ামতের দিন সালাত, সাওম ও জাকাত নিয়ে উপস্থিত হবে। কিন্তু সে দুনিয়ায় কাউকে গালি দিয়েছে, মিথ্যা অপবাদ দিয়েছে কিংবা কারো সম্পদ অন্যায়ভাবে আত্মসাৎ করেছে। কিয়ামতের দিন তার সেই নেক আমলগুলো ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের দিয়ে দেওয়া হবে। যদি পাওনা পরিশোধের আগেই তার নেকি শেষ হয়ে যায়, তবে পাওনাদারদের গুনাহ তার ওপর চাপিয়ে দেওয়া হবে এবং শেষ পর্যন্ত তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে।
ইসলামি চিন্তাবিদদের মতে, চাঁদাবাজি কেবল ব্যক্তিগত গুনাহ নয়, এটি একটি সামাজিক অপরাধ যা মানুষের অধিকার বা ‘হককুল ইবাদ’ হরণের নামান্তর। জোরপূর্বক আদায় করা এই অর্থ ভক্ষণকারী ব্যক্তি প্রকারান্তরে হারাম ভক্ষণকারী। সমাজের শান্তি বজায় রাখতে এবং পরকালীন মুক্তি নিশ্চিত করতে এই ধরনের ঘৃণ্য অপরাধ থেকে বিরত থাকা প্রতিটি মুসলিমের জন্য আবশ্যিক কর্তব্য।
এম.এম/সকালবেলা
| আজকের তারিখঃ বঙ্গাব্দ