দেশে গর্ভবতী নারীরাও হামের ঝুঁকিতে
দেশে সাম্প্রতিক হামের প্রাদুর্ভাবে শুধু শিশুরাই নয়, প্রাপ্তবয়স্করাও আক্রান্ত হচ্ছেন। বিশেষ করে গর্ভবতী নারীদের ক্ষেত্রে এই সংক্রমণ বাড়তি স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা। সময়মতো টিকাদান না হওয়া এবং ভাইরাসের ব্যাপক বিস্তারের কারণেই এই উদ্বেগজনক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার (১২ মে) পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে সারা দেশে ৩৬ হাজার ৮৮১ জন শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে ৭ হাজার ২৪ জনের দেহে হাম শনাক্ত হয়েছে। হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে এখন পর্যন্ত ৪২৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। প্রতিদিন গড়ে সাতজন শিশুর মৃত্যু এবং সহস্রাধিক নতুন সংক্রমণের খবর পাওয়া যাচ্ছে।
জনস্বাস্থ্যবিদরা বলছেন, হামের ভাইরাস অত্যন্ত ছোঁয়াচে হওয়ায় আক্রান্ত শিশুদের সংস্পর্শে থাকা পরিবারের সদস্যরাও ঝুঁকিতে পড়ছেন। শিশু বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. রিয়াজ মোবারক জানান, প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে মৃত্যুঝুঁকি কম হলেও গর্ভবতী নারী আক্রান্ত হলে তা মা ও শিশু উভয়ের জন্যই বিপজ্জনক। এর ফলে গর্ভের শিশুর জন্মগত ত্রুটি, হৃদরোগ, কম ওজন, শারীরিক বিকলাঙ্গতা কিংবা গর্ভপাতের ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের গাইনি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. মুসাররাত সুলতানা সুমি জানান, গর্ভাবস্থায় রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কম থাকে, তাই বাড়তি সতর্ক থাকা জরুরি। চিকিৎসকদের পরামর্শগুলো হলো: আক্রান্ত শিশুদের কাছ থেকে গর্ভবতী নারীদের দূরে থাকা বা আলাদা কক্ষে থাকা। প্রয়োজনে মাস্ক ব্যবহার এবং বারবার সাবান দিয়ে হাত পরিষ্কার করা। জ্বর, কাশি, চোখ লাল হওয়া বা শরীরে লালচে দানা দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ৯ ও ১৫ মাস বয়সে হাম-রুবেলার টিকা সময়মতো না দেওয়াই বর্তমান প্রাদুর্ভাবের প্রধান কারণ। তবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি শুরু হওয়ায় নতুন আক্রান্তের সংখ্যা কিছুটা কমতে শুরু করেছে। তবে পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে আরও অন্তত এক মাস সময় লাগতে পারে।
|