হাম ও উপসর্গে ২৪ ঘণ্টায় ৮ জনের মৃত্যু
অনলাইন ডেস্ক:দেশজুড়ে সংক্রামক ব্যাধি হাম (Measles) এবং এর আনুষঙ্গিক জটিল উপসর্গজনিত কারণে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েই চলেছে। বিগত বেশ কিছুদিন ধরে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে শিশুদের মধ্যে হামের প্রাদুর্ভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে, যা এখন প্রতিনিয়ত প্রাণহানির কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে এই ভাইরাসের উপসর্গে ভুগে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও আটজন রোগীর মৃত্যু হয়েছে, যা জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের নতুন করে ভাবিয়ে তুলছে।
আজ বুধবার (১০ জুন) বিকেল ৩টা ৪৫ মিনিটে অনলাইন সংস্করণে প্রকাশিত ‘স্বাস্থ্যসেবা, জননিরাপত্তা, মহামারি ও চিকিৎসা’ এবং ‘মেডিক্যাল জার্নাল, ইমিউনাইজেশন ও হেলথ বুলেটিন ট্র্যাকিং উইং’ বিভাগের বিশেষ যৌথ বুলেটিংয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া সর্বশেষ অফিশিয়াল রিপোর্টের বিস্তারিত খতিয়ান তুলে ধরা হলো।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এমআইএস ও এপিডেমিওলজি উইং থেকে আজ বুধবার দুপুরে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিশেষ বার্তায় দেশের হাম পরিস্থিতির এই সর্বশেষ আপডেট নিশ্চিত করা হয়েছে। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, গতকাল মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে শুরু করে আজ বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত—এই নির্দিষ্ট ২৪ ঘণ্টার পরিধিতে দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে হামের তীব্র উপসর্গ নিয়ে নতুন করে ভর্তি হয়েছেন আরও ১ হাজার ৩৯ জন রোগী। আক্রান্তদের মধ্যে সিংহভাগই শিশু বলে জানা গেছে।
নতুন করে ৮ জনের মৃত্যুর পর, চলতি মৌসুমে দেশে নিশ্চিত হাম এবং হামের বিভিন্ন জটিল উপসর্গ নিয়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা গিয়ে ঠেকেছে ৬৩৯ জনে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে অনেকের ক্ষেত্রেই পরবর্তীতে তীব্র নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া কিংবা শ্বাসকষ্টজনিত জটিলতা দেখা দিচ্ছে, যা মূলত মৃত্যুর প্রধান কারণ হিসেবে কাজ করছে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম একটি অত্যন্ত ছোঁয়াচে ও বায়ুবাহিত রোগ। এটি থেকে শিশুদের সুরক্ষিত রাখার একমাত্র কার্যকর উপায় হলো সময়মতো হামের প্রতিষেধক বা এমআর (Measles-Rubella) টিকা নিশ্চিত করা। কোনো শিশুর শরীরে তীব্র জ্বর, শরীরে লালচে দানা বা র্যাশ, চোখ লাল হওয়া, সর্দি ও কাশির মতো প্রাথমিক লক্ষণ দেখা দিলে কোনো প্রকার অবহেলা না করে দ্রুত নিকটস্থ সরকারি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স বা চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার জন্য জোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে রেখে আক্রান্তদের সুনির্দিষ্ট চিকিৎসার পরিধি বাড়াতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের ইতিমধ্যে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
জান্নাত সকালবেলা
|