ভিডিও
স্টোরি
ফটো স্টোরি
অনলাইন ডেস্ক: আমাদের শরীরে হৃৎপিণ্ড নীরবে, অবিরাম এবং বিরতিহীনভাবে কাজ করে যায়। হৃৎপিণ্ডে কোনো সমস্যা হলে শরীর যেমন নানা ধরনের সংকেত দেয়, তেমনি এটি ভালোভাবে কাজ করার সময়ও কিছু ইতিবাচক সংকেত পাঠায়। এই লক্ষণগুলো খুব বেশি দৃশ্যমান না হলেও সার্বিক সুস্থতা বুঝতে এগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ভারতীয় গণমাধ্যম ‘ইন্ডিয়া টিভি’র এক প্রতিবেদনে হৃৎপিণ্ড সুস্থ থাকার বেশ কয়েকটি লক্ষণের কথা জানানো হয়েছে। চলুন জেনে নেওয়া যাক সেই লক্ষণগুলো:
স্বাভাবিক হৃৎস্পন্দন: সুস্থ হৃৎপিণ্ডের অন্যতম নির্ভরযোগ্য লক্ষণ হলো বিশ্রাম নেওয়ার সময় স্বাভাবিক হৃৎস্পন্দন। প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে সাধারণত তা প্রতি মিনিটে ৬০ থেকে ১০০ স্পন্দনের মধ্যে থাকে। তবে যারা শারীরিকভাবে বেশি সক্রিয় বা অ্যাথলেট, বিশ্রাম নেওয়ার সময় তাদের হৃৎস্পন্দন আরও কম হতে পারে। নিয়মিত স্বাভাবিক হৃৎস্পন্দন সারা শরীরে সঠিক রক্ত সঞ্চালনের একটি ভালো সূচক।
নিয়ন্ত্রিত রক্তচাপ: রক্তচাপের মাত্রা ১২০/৮০ মিমি এইচজি (mmHg)-এর আশেপাশে থাকাও হৃৎপিণ্ড সুস্থ থাকার বড় একটি লক্ষণ। এর অর্থ হলো, আপনার হৃৎপিণ্ড রক্তনালির ওপর অতিরিক্ত কোনো চাপ সৃষ্টি না করেই সঠিকভাবে নিজের কাজ করে যাচ্ছে।
পর্যাপ্ত শক্তি ও সহনশীলতা: শক্তিশালী হৃৎপিণ্ড শরীরের কোষ ও টিস্যুগুলোতে অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে অক্সিজেন সরবরাহ নিশ্চিত করে, যা শরীরে শক্তির মাত্রা ঠিক রাখে। অতিরিক্ত ক্লান্তি ছাড়াই যদি আপনি দৈনন্দিন স্বাভাবিক কাজকর্ম এবং ব্যায়াম করতে সক্ষম হন, তবে বুঝতে হবে আপনার হৃৎপিণ্ড যথেষ্ট সুস্থ ও সহনশীল।
ব্যায়ামের পর দ্রুত স্বাভাবিক হওয়া: শারীরিক পরিশ্রম বা ব্যায়ামের পর আপনার হৃৎস্পন্দন কত দ্রুত স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে, তা হৃৎপিণ্ডের স্বাস্থ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক। একটি সুস্থ হৃৎপিণ্ড পরিশ্রমের পর দ্রুত রিকভার করে। কিন্তু যদি হৃৎস্পন্দন স্থিতিশীল হতে অনেক বেশি সময় নেয়, তবে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
বুকে ব্যথা বা শ্বাসকষ্ট না থাকা: একটি সুস্থ হৃৎপিণ্ড সাধারণত কোনো ধরনের অস্বস্তি সৃষ্টি না করেই নিজের কাজ চালিয়ে যায়। বুকে ব্যথা, বুকে চাপ অনুভব করা বা শ্বাসকষ্টের মতো উপসর্গ না থাকাটা হৃৎপিণ্ড সুস্থ থাকার অত্যন্ত ইতিবাচক লক্ষণ। তবে অন্য কোনো কারণেও এমন উপসর্গ দেখা দিলে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
উল্লেখিত লক্ষণগুলো হৃৎপিণ্ড সক্রিয় থাকার ইতিবাচক সূচক হলেও, এটি সবসময় শতভাগ সুস্থতার নিশ্চয়তা দেয় না। তাই হৃৎপিণ্ডের সার্বিক সুস্থতা বজায় রাখতে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত ব্যায়াম, মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ, পর্যাপ্ত ঘুম এবং ধূমপান থেকে বিরত থাকা অত্যন্ত জরুরি।
এম.এম/সকালবেলা
| আজকের তারিখঃ বঙ্গাব্দ