ভিডিও
স্টোরি
ফটো স্টোরি
নূর আহাম্মদ পলাশ, কিশোরগঞ্জ: দীর্ঘদিন ধরে ডিমের অস্বাভাবিক মূল্য পতন এবং উৎপাদন খরচের তুলনায় বিক্রয় মূল্য কম হওয়ায় কিশোরগঞ্জে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান করেছেন প্রান্তিক পোল্ট্রি খামারিরা।
রোববার (১২ এপ্রিল) দুপুরে বাংলাদেশ পোল্ট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশন কিশোরগঞ্জ জেলা শাখার উদ্যোগে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে এই কর্মসূচি পালিত হয়।
মানববন্ধন শেষে খামারিরা জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর একটি স্মারকলিপি প্রদান করেন।
মানববন্ধনে বক্তারা জানান, বর্তমানে প্রতিটি ডিম উৎপাদনে খরচ হচ্ছে ৯ থেকে ১০ টাকা। অথচ বাজারে তা বিক্রি করতে হচ্ছে মাত্র ৬.৫০ থেকে ৭ টাকায়। ফলে প্রতিটি ডিমে খামারিদের প্রায় ২.৫০ থেকে ৩ টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে। গত ১০ মাস ধরে এই পরিস্থিতি চলতে থাকায় জেলার অনেক ক্ষুদ্র খামারি ইতিমধ্যে তাদের খামার বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছেন।
সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ পোল্ট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশন কিশোরগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি সাদিকুর রহমান এবং সদস্য সচিব রফিকুল ইসলাম। তারা বলেন, “ডলারের অজুহাতে পোল্ট্রি ফিড, ওষুধ ও ভ্যাকসিনের দাম কয়েক গুণ বাড়ানো হয়েছে। এর ওপর বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খরচ বৃদ্ধিতে খামারিরা দিশেহারা। অবিলম্বে ডিমের ন্যূনতম মূল্য নির্ধারণ না করলে এই খাতটি ধ্বংস হয়ে যাবে।”
সংশ্লিষ্টদের মতে, দেশের মোট ডিম উৎপাদনের ৮০ থেকে ৮২ শতাংশ আসে প্রান্তিক খামারিদের কাছ থেকে। তারা উৎপাদন বন্ধ করে দিলে ভবিষ্যতে ডিমের তীব্র সংকট তৈরি হতে পারে। এছাড়া ক্ষুদ্র খামারিরা ঝরে পড়লে বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো একচেটিয়া বাজার দখল করার ঝুঁকি রয়েছে, যা সাধারণ ভোক্তাদের জন্য বিপজ্জনক হবে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে খামারিরা প্রধানমন্ত্রীর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—উৎপাদন খরচ অনুযায়ী ডিমের ন্যূনতম দাম নির্ধারণ, ক্ষুদ্র খামারিদের জন্য বিশেষ প্রণোদনা ও ভর্তুকি প্রদান এবং পোল্ট্রি ফিডের দাম নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ।
এ.আই.এল/সকালবেলা
| আজকের তারিখঃ বঙ্গাব্দ