বিছানাবন্দি রিকশাচালক নকির মানবেতর জীবনযাপন
মো: গোলাম কিবরিয়া, রাজশাহী জেলা প্রতিনিধি: রাজশাহী মহানগরীর ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের জামালপুর এলাকায় দীর্ঘ ৬ বছর ধরে এক পা ও এক হাত প্যারালাইসিস (পক্ষাঘাতগ্রস্ত) হয়ে বিছানায় শুয়ে চরম অসহায় অবস্থায় দিনযাপন করছেন ৭৫ বছর বয়সী বৃদ্ধ রিকশাচালক নকির। জীবনের দীর্ঘ ৫০টি বছর রাজপথের বুকে রিকশা চালিয়ে তীব্র ভাঙা চোরা সংসারের চাকা সচল রেখেছিলেন যিনি, আজ বার্ধক্য ও অসুস্থতার এই কঠিন সময়ে একটি হুইলচেয়ারের অভাবে চার দেয়ালের অন্ধকূপেই বন্দি হয়ে পড়েছেন তিনি। অশ্রুসজল চোখে তাঁর আকুতি— “রাজশাহীতে কি এমন কোনো দয়াবান মানুষ নেই, যে আমাকে একটা হুইলচেয়ার কিনে দেবে?”
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, নকির ও তাঁর স্ত্রী হাসনা বানু প্রায় ৩০ বছর ধরে অন্যের জায়গায় একটি ছোট ভাঙা ঘরে কোনোমতে বসবাস করছেন। বয়সের ভার ও স্ট্রোকজনিত অসুস্থতার কারণে নকির এখন পুরোপুরি কর্মক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছেন। ফলে এই বৃদ্ধ বয়সে এসে এখন জরাজীর্ণ সংসারের একমাত্র হাল ধরতে হয়েছে তাঁর স্ত্রীকে। স্বামী-স্ত্রী দীর্ঘদিন ধরে চরম অর্থকষ্টে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। এক বেলা খেয়ে না খেয়ে স্বামীর ওষুধের টাকা জোগাতে দিনরাত অক্লান্ত পরিশ্রম করেন তাঁর বৃদ্ধা স্ত্রী। স্থানীয়দের দাবি, একটি হুইলচেয়ার পেলে অন্তত বিছানাবন্দি অবরুদ্ধ জীবন থেকে কিছুটা মুক্তি পেতেন নকির; ঘরের বাইরে একটু মুক্ত বাতাস নেওয়ার সুযোগ পেতেন। এর পাশাপাশি পরিবারটির জন্য নিয়মিত চিকিৎসা ও সরকারি-বেসরকারি মানবিক সহায়তা জরুরি।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে হাসনা বানু জানান, তাঁদের দুই সন্তান আলাদা সংসার নিয়ে থাকেন। সন্তানদের স্বল্প আয়ের কারণে তারা অভাবের তাড়নায় নিয়মিতভাবে বাবা-মায়ের দায়িত্ব নিতে বা ভরণপোষণ দিতে পারে না। স্বামীর কষ্টের কথা ভেবে একটি হুইলচেয়ারের জন্য এলাকার অনেকের কাছেই গেছেন, আকুতি জানিয়েছেন। কিন্তু আজ পর্যন্ত কেউ সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয়নি।
তিনি আরও জানান, এই বয়সে মানুষের বাড়িতে গৃহকর্মীর (ঝিয়ের) কাজ করে মাসে মাত্র চার হাজার টাকার মতো আয় করেন। সেই সামান্য টাকার সিংহভাগই চলে যায় প্যারালাইজড স্বামীর নিত্যদিনের ওষুধ কিনতে। বাকি নামমাত্র টাকায় কোনোমতে দুই বেলা লবণ-ভাত খেয়ে বেঁচে আছেন তাঁরা। সমাজের বিত্তবান ও মানবিক মানুষদের কাছে তাঁর আকুল আবেদন, কেউ যেন তাঁর পঙ্গু স্বামীর জন্য অন্তত একটি হুইলচেয়ার ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করে দেন।
বিত্তবানদের সামান্য একটু সহানুভূতির ছোঁয়া ও প্রশাসনের নজরদারি পেলে, জীবনের শেষ প্রান্তে এসে রিকশাচালক নকির কিছুটা হলেও বেঁচে থাকার নতুন আশার আলো খুঁজে পাবেন বলে মনে করছেন প্রতিবেশীরা।
এআইএল/সকালবেলা
|