বৃদ্ধাকে উদ্ধার করে চিকিৎসা, প্রশংসায় ভাসছেন ইউএনও

প্রকাশ: শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ০৩:১৫ অপরাহ্ণ
বৃদ্ধাকে উদ্ধার করে চিকিৎসা, প্রশংসায় ভাসছেন ইউএনও

নরসিংদী প্রতিনিধি: নরসিংদী শহরের রাস্তার পাশে এক ঝুপড়ি ঘর থেকে অজ্ঞাতপরিচয় ও গুরুতর অসুস্থ এক বৃদ্ধাকে (৬০) উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেছেন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আসমা জাহান সরকার। কেবল উদ্ধারই নয়, ওই বৃদ্ধার শেষ ইচ্ছা পূরণে নিজ হাতে পোলাও-মাংস রান্না করে হাসপাতালে নিয়ে গেছেন এবং তাঁর চিকিৎসার যাবতীয় দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন এই মানবিক কর্মকর্তা।

গত বুধবার (১০ জুন) সকালে শহরের সাটিরাপাড়া মহল্লার শ্রম কল্যাণ কেন্দ্রের পাশ থেকে ওই বৃদ্ধাকে উদ্ধার করার পর থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইউএনও’র এই মানবিক উদ্যোগ প্রশংসায় ভাসছে।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার রাতে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার ব্যক্তিগত হোয়াটসঅ্যাপে একজন সচেতন নাগরিক একটি লিঙ্ক পাঠান। সেখানে দেখা যায়, এক বৃদ্ধ নারী নাম-পরিচয়হীন ও চরম অবহেলিত অবস্থায় সাটিরাপাড়া এলাকার রাস্তার ধারে এক জরাজীর্ণ ঝুপড়িতে পড়ে ধুঁকছেন। বিষয়টি দেখামাত্রই ইউএনও’র মনকে নাড়া দেয়। বিবেকের তাড়নায় তিনি পরদিন বুধবার সকালেই টিম নিয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যান এবং স্থানীয়দের সহযোগিতায় বৃদ্ধাকে উদ্ধার করে নরসিংদী সদর হাসপাতালে ভর্তি করান।

হাসপাতালে ভর্তির সময় ওই বৃদ্ধা রান্না করা পোলাও ও গরুর মাংস খাওয়ার আকুতি জানিয়েছিলেন। তাঁর এই সামান্য ইচ্ছা পূরণের জন্য ইউএনও আসমা জাহান সরকার গত বৃহস্পতিবার দুপুরে নিজ বাসায় নিজ হাতে পোলাও এবং গরুর মাংস রান্না করেন। সাথে আপেল, কমলা, মাল্টা ও ফলমূল নিয়ে নিজ গাড়িতে করে হাসপাতালে ওই নারীর কাছে ছুটে যান। তিনি নিজ হাতে বৃদ্ধাকে পরম মমতায় খাবার খাইয়ে দেন।

শুধু তাই নয়, স্বজনহীন এই অসহায় নারীকে সার্বক্ষণিক দেখাশোনার জন্য নিজস্ব অর্থায়নে দুজন আয়া নিযুক্ত করে দেন এবং প্রয়োজনীয় সব ওষুধপত্র কিনে দেন। হাসপাতালে প্রায় তিন ঘণ্টা সময় কাটিয়ে বৃদ্ধার চিকিৎসার খোঁজখবর নেন তিনি। এ সময় নরসিংদী সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. জলিল কায়সার খোকন, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আশরাফুল ইসলাম খান এবং নরসিংদী মডেল থানার পুলিশ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

মানবিক এই কাজের বিষয়ে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসমা জাহান সরকার সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “ছবিটি দেখার পর থেকেই আমার মনে দাগ কেটেছিল। সরকারের নিয়মিত প্রশাসনিক কাজের পাশাপাশি একজন অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে পেরে আত্মিক প্রশান্তি পাচ্ছি। দীর্ঘদিন অযত্নে থাকায় তিনি স্মৃতিশক্তি হারিয়ে ফেলেছেন। এখন তাঁকে পুরোপুরি সুস্থ করে তোলাই আমাদের প্রথম কাজ।”

নরসিংদী সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. গোলশান আরা কবির জানিয়েছেন, “বৃদ্ধা বর্তমানে শারীরিক ও মানসিকভাবে অনেকটাই অসুস্থ। তিনি নিজের নাম বা ঠিকানা কিছুই বলতে পারছেন না।” হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ওই নারীর আসল পরিচয় ও স্বজনদের খুঁজে বের করতে ইতোমধ্যে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) মাধ্যমে বায়োমেট্রিক ফিঙ্গারপ্রিন্ট সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এআইএল/সকালবেলা

মন্তব্য করুন