না ফেরার দেশে অভিনেত্রী সঞ্চিতা উগালে
বিনোদন প্রতিবেদক:ভারতের গ্ল্যামারাস বিনোদন জগতের এক উদীয়মান নক্ষত্র, যিনি টেলিভিশন সিরিজ থেকে ওটিটি এবং রূপালি পর্দায় নিজের সাবলীল অভিনয়ের স্বাক্ষর রাখছিলেন, সেই অভিনেত্রী সঞ্চিতা উগালে (Sanchita Ugale) চিরবিদায় নিলেন এই পৃথিবীর মায়া কাটিয়ে। মাত্র ২২ বছর বয়সে তাঁর এই অকাল মৃত্যু শোবিজ অঙ্গনে গভীর শোক ও বিস্ময়ের সৃষ্টি করেছে। মুম্বাইয়ের নালাসোপাড়ার নিজ বাসভবনে রবিবার সন্ধ্যায় তাঁর নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়েছে, যা প্রাথমিক তদন্ত ও পুলিশি তথ্যে আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আজ সোমবার (১৫ জুন) বিকেলে অনলাইন সংস্করণে প্রকাশিত ‘সেলিব্রিটি শোকবার্তা, গ্লোবাল বিনোদন ও বিনোদন খতিয়ান’ এবং ‘ইন্টারন্যাশনাল শোবিজ মনিটরিং ও ক্রাইম রিপোর্টিং উইং’-এর বিশেষ যৌথ বুলেটিংয়ে এই মর্মান্তিক ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরা হলো।
মুম্বাই পুলিশ সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, আচোলে থানার সহকারী পুলিশ পরিদর্শক বিনোদ বাঘ জানিয়েছেন, রোববার সন্ধ্যা ৭টা থেকে ৭টা ৩০ মিনিটের মধ্যে সঞ্চিতা তাঁর নিজের শোবার ঘরের দরজা ভেতর থেকে আটকে দেন। পরবর্তীতে পরিবারের লোকজন ও স্থানীয়দের সহযোগিতায় দরজা ভেঙে সিলিং ফ্যানের সাথে শাড়ি দিয়ে পেঁচানো অবস্থায় অভিনেত্রীকে উদ্ধার করা হয়। দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রাথমিক তদন্ত ও ফরেনসিক নমুনা সংগ্রহ করেছে। এরপর অভিনেত্রীর বাবা মচ্ছিন্দ্র উগালির দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ একটি ‘অ্যাক্সিডেন্টাল ডেথ রিপোর্ট’ (ADR) নথিভুক্ত করে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছে। মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে এখনো কোনো অফিসিয়াল তথ্য নিশ্চিত করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
একজন তরুণ ও প্রাণবন্ত অভিনেত্রীর এমন মর্মান্তিক পরিণতি মেনে নিতে পারছেন না তাঁর অনুরাগীরা। মৃত্যুর ঠিক ১৮ ঘণ্টা আগে শনিবার তিনি নিজের সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি অত্যন্ত হাস্যোজ্জ্বল রিল ভিডিও পোস্ট করেছিলেন, যেখানে তাঁকে একটি প্রাণবন্ত গানের সঙ্গে নাচতে দেখা গিয়েছিল। সেই ভিডিওর কমেন্ট সেকশনে এখন অনুরাগীদের অশ্রুসিক্ত শোকবার্তা ও হাহাকার উপচে পড়ছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, পর্দার পেছনের এই হাসিমুখের আড়ালে কোন অব্যক্ত মানসিক যন্ত্রণার কন্ডিশন লুকিয়ে ছিল।
উল্লেখ্য যে, সঞ্চিতা উগালে ছোট পর্দা ও বড় পর্দায় দারুণ সম্ভাবনাময়ী এক ক্যারিয়ারের পথে ছিলেন। বিশেষ করে জি টিভির জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘কুমকুম ভাগ্য’ (Kumkum Bhagya)-তে ‘দিয়া ট্যান্ডন’ এবং ‘ওয়াগলে কি দুনিয়া’ (Wagle Ki Duniya)-তে ‘রুচিতা’ চরিত্রে অভিনয় করে তিনি দর্শকদের ব্যাপক ভালোবাসা ও প্রশংসা কুড়িয়েছিলেন। এছাড়া ভিকি কৌশল অভিনীত সিনেমা ‘ছাবা’ (Chhaava)-তে ‘তারা রানি’র ছোটবেলার চরিত্রে অভিনয় করে তিনি চলচ্চিত্রেও নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করেছিলেন। তাঁর এই অকাল প্রস্থানে ভারতীয় বিনোদন জগতে এক অপূরণীয় শূন্যতা তৈরি হলো।
জান্নাত সকালবেলা
|