মাকালু শীর্ষে প্রথম বাংলাদেশি

প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬, ০৩:৫৭ অপরাহ্ণ
মাকালু শীর্ষে প্রথম বাংলাদেশি

প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে বিশ্বের পঞ্চম সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ ‘মাকালু’ (৮,৪৮৫ মিটার) জয় করে ইতিহাস গড়লেন বাবর আলী। হিমালয়ের দুর্গম এই চূড়ায় আরোহণের মাধ্যমে তিনি পৃথিবীর ১৪টি আট হাজারি শৃঙ্গের মধ্যে পঞ্চমটির শীর্ষে লাল-সবুজের পতাকা ওড়ালেন। মাকালু জয়ের এই কঠিন যাত্রার অভিজ্ঞতার কথা পাঠকদের জন্য তুলে ধরেছেন বাবর আলী নিজেই।

অভিযানের শুরুতে বাবর আলী ও তার সঙ্গীরা তাশিগাঁও থেকে যাত্রা শুরু করেন, যা এই অঞ্চলের শেষ স্থায়ী বসতি। এরপর থেকে পথ কেবল চড়াই-উতরাই আর তুষারপাতের গল্প। ২,২৯৫ মিটার উচ্চতায় মণি ওয়াল পেরিয়ে পাথুরে সিঁড়ি বেয়ে ওপরে ওঠার সময় তিনি মাকালু বরুণ ন্যাশনাল পার্কের জীববৈচিত্র্য প্রত্যক্ষ করেন। হিমালয়ান ওক, বাঁশঝাড় আর রডোডেন্ড্রনের সমারোহে ঘেরা এই পথে তিব্বতি স্নোকক ও মোনালের মতো পাখির কলতান যাত্রার ক্লান্তি ভুলিয়ে দেয়।

বাবর আলী জানান, মাত্র ৩০০০ মিটার উচ্চতা থেকেই এবার অভূতপূর্ব তুষারের দেখা মিলেছে। গত কয়েকদিনের খারাপ আবহাওয়ার কারণে এ পথে ৪০-৫০ সেন্টিমিটার পুরু তুষার জমে গিয়েছিল। এর মধ্য দিয়ে পথ ভেঙে সামনে এগিয়ে যাওয়া ছিল চরম চ্যালেঞ্জিং। ৩,২০০ মিটার উচ্চতার উনশিশা (দেউরালি) হয়ে তারা এগিয়ে চলেন কংমা’র দিকে।

যাত্রাপথে বাবর আলীর দেখা মেলে মোহিনী বরুণ নদীর সাথে, যা মাকালু পর্বতের হিমবাহ থেকে নেমে এসেছে। লাল পাথর আর নীল জলের মিতালি, সাথে গোলাপি ও লাল রডোডেন্ড্রনের (লালি গোরাস) আভা পুরো উপত্যকাকে এক অপার্থিব রূপ দিয়েছে। ইয়াংলে খারকায় (৩,৫৫৭ মিটার) পৌঁছে তিনি সেখানকার জনজীবন ও ইয়াক পালকদের সাদাসিধে জীবনযাত্রা পর্যবেক্ষণ করেন।

যাত্রার অবসরে বাবর আলীর সঙ্গী রুশ আরোহী কন্সট্যান্টিন শেয়ার করেন উচ্চ উচ্চতায় পর্বতারোহীদের ‘হ্যালুসিনেশন’ বা দৃষ্টিবিভ্রমের গল্প। মাত্রাতিরিক্ত ক্লান্তিতে আরোহীরা কীভাবে একা হয়েও দলের অস্তিত্ব অনুভব করেন, তা ছিল রোমাঞ্চকর। বাবর আলীর মতে, হিমালয়ের এই বিশালতার কাছে মানুষের সামান্যতাকে উপলব্ধি করাই প্রকৃত ভ্রমণ।

বাবর আলীর এই অনন্য কীর্তি বাংলাদেশের পর্বতারোহণের ইতিহাসে এক নতুন মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে।

জান্নাত/সকালবেলা

মন্তব্য করুন