বাগেরহাটে ইয়াবাসহ ‘কানা আজিম’ গ্রেপ্তার

বাগেরহাটে ইয়াবাসহ ‘কানা আজিম’ গ্রেপ্তার

মাসুম বিল্লাহ, বাগেরহাট প্রতিনিধি: বাগেরহাটে ‘হাছান আবাসিক’ হোটেলের মালিক মো. রিয়াজুল ইসলাম হাছানকে অপহরণ, বিবস্ত্র করে নির্যাতন এবং চাঁদা দাবির ঘটনায় প্রধান আসামি আজিম ভূঁইয়া ওরফে কানা আজিমকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। 

বুধবার (২২ এপ্রিল) বিকেলে শহরের বাসাবাটি এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের সময় তার কাছ থেকে ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী রিয়াজুল ইসলাম বাগেরহাট শহরের রাহাতের মোড়ে অবস্থিত ‘হাছান আবাসিক’ হোটেলটি চুক্তিতে ভাড়া নিয়ে পরিচালনা করছিলেন। হোটেলটি নেওয়ার পর থেকেই আজিম ভূঁইয়া ও তার সহযোগীরা রিয়াজুলের কাছে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিল। গত ১৬ এপ্রিল রাতে আজিমের নেতৃত্বে ৭-৮ জনের একটি সন্ত্রাসী দল হোটেল থেকে রিয়াজুলকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায়। পরে তাকে বাসাবাটি এলাকায় আটকে রেখে হাতুড়ি ও লাঠি দিয়ে পিটিয়ে জখম করা হয়।

ভুক্তভোগীর অভিযোগ, ২০ এপ্রিল আবারও তাকে তুলে নিয়ে একটি ভাড়া বাসায় আটকে রাখা হয়। সেখানে তাকে বিবস্ত্র করে এবং গোপন অঙ্গে পানির বোতল ঝুলিয়ে অমানবিক নির্যাতন চালিয়ে সেই দৃশ্য ভিডিও করা হয়। চাঁদা না দিলে এই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে ৫০ হাজার টাকা দাবি করে সন্ত্রাসীরা। পরে টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতিতে মুক্তি পেয়ে রিয়াজুল হাসপাতালে চিকিৎসা নেন এবং ২১ এপ্রিল বাগেরহাট মডেল থানায় মামলা করেন।

বাসাবাটি এলাকার সাধারণ মানুষের দাবি, আজিম ভূঁইয়া ও তার বাহিনীর অত্যাচারে এলাকাটি এখন জিম্মি। তাদের বিরুদ্ধে মৎস্য ঘের দখল, চাঁদাবাজি ও অপহরণসহ অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে। গত ৫ আগস্টের পর থেকে তাদের দৌরাত্ম্য আরও বেড়েছে। এমনকি ইতিপূর্বে তারা একজন অবসরপ্রাপ্ত সাব-রেজিস্ট্রারের মৎস্য ঘের লুট এবং স্থানীয় এক রাজনৈতিক নেতাকে কুপিয়ে জখম করার ঘটনায় অভিযুক্ত। এর আগে সেনাবাহিনীর হাতে অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার হলেও জামিনে বেরিয়ে তারা আবারও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হয়।

বাগেরহাট সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম জানান, "হোটেল মালিককে নির্যাতন ও চাঁদাবাজির মামলায় প্রধান আসামি আজিম ভূঁইয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তল্লাশিকালে তার কাছে মাদক পাওয়া গেছে। তার বিরুদ্ধে আগেরও একাধিক মামলা রয়েছে। মামলার বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।"

এ.আই.এল/সকালবেলা

মন্তব্য করুন