রাজারহাটে সংবাদ সংগ্রহকালে সাংবাদিক লাঞ্ছিত

রাজারহাটে সংবাদ সংগ্রহকালে সাংবাদিক লাঞ্ছিত

মামুন চৌধুরী, রাজারহাট (কুড়িগ্রাম): কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলায় তিস্তা নদীর তীর সংরক্ষণ প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে এক সাংবাদিক পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মচারীর হাতে লাঞ্ছনা ও হুমকির শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

গত ৮ এপ্রিল দুপুরে উপজেলার চতুরার কালিরমেলা এলাকায় প্রকল্পের ৩ নম্বর প্যাকেজে এই ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত ব্যক্তি পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) ওয়ার্ক অ্যাসিস্ট্যান্ট শাহিন আলম।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, তিস্তা নদীর ভাঙন রোধে রাজারহাটের ঘড়িয়ালডাঙ্গা ও বিদ্যানন্দ ইউনিয়নে চলমান কোটি টাকার এই প্রকল্পে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করা হচ্ছে। বিশেষ করে স্লোপ নির্মাণে নিম্নমানের বালু ও সিমেন্ট ব্যবহার এবং জিও ব্যাগে নির্ধারিত ওজন না দেওয়ার অভিযোগ দীর্ঘদিনের।

ঘটনার দিন দুপুরে সাংবাদিক হাফিজুর রহমান প্রকল্পের জিও ব্যাগের ওজন যাচাই করতে গেলে শাহিন আলম তাকে বাধা প্রদান করেন এবং অত্যন্ত অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শাহিন আলম সাংবাদিকের ক্যামেরা ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন এবং নিজের মোবাইলে ভিডিও ধারণ করে ওই সাংবাদিককে 'চাঁদাবাজ' হিসেবে প্রচার করার হুমকি দেন। এমনকি রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তাকে শায়েস্তা করার হুমকিও দেওয়া হয়।

সংশ্লিষ্ট প্রকল্প নিয়ে স্থানীয়দের ক্ষোভ নতুন নয়। এর আগে বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের চতরা মৌলভীপাড়া এলাকায় নিম্নমানের কাজের প্রতিবাদে এলাকাবাসী কাজ বন্ধ করে দিয়েছিল। ১ কোটি ৩৭ লাখ টাকার একটি প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগে ইতিপূর্বে টেকনিক্যাল টাস্কফোর্স প্রায় ৬ হাজার জিও ব্যাগ বাতিল ঘোষণা করেছিল। সরকারি বিধি অনুযায়ী জিও ব্যাগের পুরুত্ব ৩ মিলিমিটার হওয়ার কথা থাকলেও তা মানা হচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী সাংবাদিক হাফিজুর রহমান বৃহস্পতিবার কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী বরাবর লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন।

রেল-নৌ যোগাযোগ ও পরিবেশ উন্নয়ন গণকমিটির সংগঠক খন্দকার আরিফ বলেন, "সরকারি প্রকল্পে অনিয়ম বন্ধ এবং গণমাধ্যমকর্মীদের পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।"

এ.আই.এল/সকালবেলা

মন্তব্য করুন