সংবাদ প্রকাশের পর নকল চাল বিক্রেতার ‘কোটিপতি’ হওয়ার চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস

সংবাদ প্রকাশের পর নকল চাল বিক্রেতার ‘কোটিপতি’ হওয়ার চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস

নাজিম উদ্দীন জনি, শার্শা (বেনাপোল) প্রতিনিধি: দৈনিক সকালবেলায় সংবাদ প্রকাশের পর যশোরের শার্শা উপজেলার বাগআঁচড়া বাজারের সেই বিতর্কিত মুদি ব্যবসায়ী আরিফ হোসেনের জিরো থেকে হিরো হওয়ার নেপথ্য কাহিনি এখন টক অব দ্য টাউন। অবৈধ ভারতীয় পণ্য বাণিজ্য, কালোবাজারি ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণার মাধ্যমে তিনি এখন কয়েক কোটি টাকার সম্পদের মালিক।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, শার্শার গোগা, রুদ্রপুর ও দাউদখালি এবং পার্শ্ববর্তী কলারোয়া সীমান্ত দিয়ে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেটের মাধ্যমে তিনি ভারতীয় জিরা, এলাচ, গুঁড়াদুধ, চা পাতা, হরলিক্স ও বিভিন্ন নামি ব্র্যান্ডের কসমেটিকস অবৈধভাবে দেশে আনেন। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে এই অবৈধ ব্যবসা শুরু করলেও ৫ আগস্টের পর ভোল পাল্টে স্থানীয় কথিত এক বিএনপি নেতাকে ম্যানেজ করে তিনি তাঁর এই বাণিজ্য ও কালোবাজারি অব্যাহত রেখেছেন।

আরিফের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি খোলা বাজার থেকে নিুমানের পণ্য কিনে নামি-দামি কোম্পানির মোড়কে প্যাকেটজাত করে আসল পণ্য হিসেবে চড়া দামে বিক্রি করেন। সম্প্রতি এমন অভিযোগে শার্শা উপজেলা প্রশাসন তাঁর দোকানে অভিযান চালিয়ে অবৈধভাবে প্যাকেটজাত পণ্য জব্দ ও জরিমানা করে। এছাড়া নকল চাল বিক্রির বিষয়টিও জনসমক্ষে আসে।

স্থানীয়দের তথ্যমতে, আরিফ হোসেনের শৈশব কেটেছে অভাব-অনটনে। তাঁর বাবা আব্দুল মাজেদ গ্রামে গ্রামে চিটাগুড় বিক্রি করতেন। বাগুড়ী এলাকায় মাত্র ৪ শতক জমির ওপর ছিল তাঁদের ভাঙা ঘর। কিন্তু কয়েক বছরের ব্যবধানে বাগআঁচড়া এলাকায় তিনি নির্মাণ করেছেন তিন তলাবিশিষ্ট এক আলিশান বাড়ি এবং কিনেছেন কয়েক কোটি টাকার ভূ-সম্পত্তি।

এ সকল অভিযোগের বিষয়ে আরিফ হোসেন বলেন, “আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।” তবে সাংবাদিকের প্রশ্নের মুখে তিনি চালের সাথে চাল মিশিয়ে প্রতারণা করার বিষয়টি স্বীকার করেন।

সহকারী পুলিশ সুপার (নাভারণ সার্কেল) জানান:

“বিষয়টি আমরা অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখছি। তদন্ত সাপেক্ষে অবৈধ সীমান্ত বাণিজ্যের সাথে জড়িত থাকলে তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) যশোরের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ সালাউদ্দিন জানান, কোনো ব্যক্তি জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন বা দুর্নীতির মাধ্যমে সম্পদ গড়লে তদন্ত সাপেক্ষে তাঁর স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ বাজেয়াপ্তসহ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এন.এ/সকালবেলা

মন্তব্য করুন