সাজেকে সুপেয় পানির তীব্র সংকট: চরম দুর্ভোগে দুর্গম পাহাড়ের মানুষ

সাজেকে সুপেয় পানির তীব্র সংকট: চরম দুর্ভোগে দুর্গম পাহাড়ের মানুষ

রুপম চাকমা, স্টাফ রিপোর্টার: রাঙ্গামাটির দুর্গম বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক ইউনিয়নে সুপেয় পানির জন্য হাহাকার শুরু হয়েছে। মাঘ-ফাল্গুন মাস আসতেই পাহাড়ের ঝিরি-ঝরনাগুলো শুকিয়ে যাওয়ায় কয়েক হাজার মানুষ এখন চরম পানির কষ্টে দিনাতিপাত করছেন।

সাজেক ইউনিয়নের এলাকাগুলো অত্যন্ত দুর্গম ও সীমান্তবর্তী হওয়ায় সেখানে সাধারণ টিউবওয়েল বা রিংওয়েল কার্যকর হয় না। স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়:

  • ঝিরি ও ঝরনাগুলো শুকিয়ে যাওয়ায় বর্তমানে রান্নাবান্না ও স্নানের পানি পাওয়াও দুষ্কর হয়ে পড়েছে।

  • অনেক এলাকায় গ্রামবাসীকে পানি সংগ্রহের জন্য ৭০-৮০ ফুট গভীর খাড়া পাহাড় বেয়ে নিচে নামতে হচ্ছে।

  • লাকার বাসিন্দা লক্ষীবান চাকমা জানান, তাদের গ্রামে ২০০ পরিবারের বাস। পানির জন্য এখন দীঘিনালা থেকে ট্রাক ভাড়া করে পানি আনতে হচ্ছে। অনেককে প্রতিদিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা হেঁটে পাশের গ্রামে গিয়ে পানি সংগ্রহ করতে হয়।

বাঘাইছড়ি উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান সুদর্শন চাকমা বলেন, সমতলের পদ্ধতি ব্যবহার করে পাহাড়ে সুপেয় পানির সংকট নিরসন সম্ভব নয়। ভূগর্ভস্থ পানির স্তর না পাওয়ায় এখানে গভীর নলকূপও অনেক সময় সফল হয় না। এ সমস্যার স্থায়ী সমাধানে গভীর গবেষণার প্রয়োজন।

অন্যদিকে, সাজেক ইউনিয়নের মেম্বার পরিচয় চাকমা জানান, বৃষ্টি না হওয়ায় এ বছর সংকট অন্যান্য বছরের তুলনায় অনেক বেশি তীব্র। পানি সংকটের সমাধানে বাঘাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) বরাবর লিখিত আবেদন জানানো হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

ঝিরি-ঝরনার ওপর নির্ভরশীল মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি কমাতে কাজ করা বেসরকারি সংস্থা ‘আশিকা’-র নির্বাহী পরিচালক বিপ্লব চাকমা বলেন:

“পানির উৎসগুলো দিন দিন মরে যাচ্ছে। ঝিরি-ঝরনা রক্ষায় পানি ধারণ করতে পারে এমন গাছ যেমন— চালতা ও জলপাই গাছ বেশি করে রোপণ করা জরুরি। এছাড়া মরে যাওয়া ঝিরিগুলো সার্ভে করে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।”

জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বাঘাইছড়ি ছাড়াও বরকল, জুরাছড়ি ও বিলাইছড়ির প্রত্যন্ত গ্রামেও একই অবস্থা বিরাজ করছে। দুর্গম এই জনপদে সুপেয় পানি নিশ্চিত করা না গেলে পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যঝুঁকি মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এন.এ/সকালবেলা

মন্তব্য করুন