যুদ্ধবিরতির পর গাজায় নিয়ন্ত্রণ পুনঃপ্রতিষ্ঠায় হামাস

যুদ্ধবিরতির পর গাজায় নিয়ন্ত্রণ পুনঃপ্রতিষ্ঠায় হামাস

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় গত অক্টোবর কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতি গাজায় সংঘাত কমালেও হামাসের তৎপরতা থামেনি। ইসরায়েলের বিরুদ্ধে টিকে থাকার লড়াই থেকে সংগঠনটি এখন গাজায় নিজেদের নিয়ন্ত্রণ পুনঃপ্রতিষ্ঠার দিকে মনোযোগ দিয়েছে বলে জানিয়েছে বিবিসি।

যুদ্ধের সময় হামাসের শৃঙ্খলাবদ্ধ সামরিক ইউনিটগুলো ভেঙে গেরিলা কৌশলে রূপ নেয়। অধিকাংশ নেতা নিহত হন। গাজার অবকাঠামো ব্যাপকভাবে ধ্বংস হয়, জনগণ বাস্তুচ্যুত হয় এবং অর্থনীতি বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। হামাস-নিয়ন্ত্রিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, সংঘাতে ইসরায়েলি হামলায় ৭২ হাজারের বেশি গাজাবাসী নিহত হয়েছেন।

চার মাস পর স্থানীয়দের দাবি, নিরাপত্তা, কর আদায় ও সরকারি সেবায় আবারও নিয়ন্ত্রণ জোরদার করছে হামাস। এতে সংগঠনটির দীর্ঘমেয়াদি কৌশল নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, বিশেষ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত শান্তি পরিকল্পনার দ্বিতীয় ধাপে অস্ত্র ও কর্তৃত্ব ছাড়ার শর্ত সামনে থাকায়।

গাজার এক কর্মী মোহাম্মদ দিয়াব বলেন, যেসব এলাকায় হামাস উপস্থিত, তার অধিকাংশ জায়গায় তারা আবার নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। পুলিশ ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলো রাস্তায় টহল দিচ্ছে, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করছে এবং যাদের সহযোগী বা ভিন্নমতাবলম্বী হিসেবে চিহ্নিত করছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে। নাগরিকদের পরিচয়পত্র বা স্বাস্থ্যসংক্রান্ত কাজে হামাস-নিয়ন্ত্রিত কর্তৃপক্ষের কাছেই যেতে হচ্ছে। বিচারব্যবস্থাতেও তাদের প্রভাব বাড়ছে।

বিভিন্ন বাজারের ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, নিয়মিত পুলিশ টহল চলছে এবং সরকারি ফি ও কর আদায়ে কঠোরতা বেড়েছে। এক দোকানি বলেন, বাজার শান্ত থাকলেও পৌরসভা ভাড়া আদায়ে চাপ দিচ্ছে। পরিচয় গোপন রাখার শর্তে আরেকজন জানান, প্রতিদিন নির্দিষ্ট অঙ্কের অর্থ দাবি করা হচ্ছে, না দিলে পণ্য জব্দের হুমকি দেওয়া হয়।

গাজা সিটির এক দোকানি বলেন, শহরের পূর্বের শুজাইয়া এলাকা থেকে তিনি ও তার ১২ সদস্যের পরিবার বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। তার দোকান এখন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। পাশের এক সিগারেট বিক্রেতা জানান, প্রতিদিন পৌরসভার লোকজন এসে পণ্য গুনে দেখে এবং কর আদায় করে।

যুদ্ধবিরতির পর গাজায় খাদ্য ও নিত্যপণ্যের প্রবেশ কিছুটা সহজ হয়েছে। তবে আমদানিকারকদের দাবি, আমদানির ওপর আবারও কঠোর কর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে। এক ব্যবসায়ী বলেন, পণ্যের ধরন ও পরিমাণ অনুযায়ী কর নির্ধারণ করা হয় এবং অস্বীকৃতি জানালে চাপ প্রয়োগ করা হয়।

অ্যাক্টিভিস্ট মোহাম্মদ দিয়াবের দাবি, পণ্য আমদানিকারীদের তথ্যভান্ডার এখন হামাসের হাতে রয়েছে এবং লেনদেন নগদে করা হচ্ছে, যাতে অর্থপ্রবাহ অনুসরণ করা না যায়।

হামাসের মুখপাত্র হাজেম কাসেম বলেন, গাজা জরুরি অবস্থায় রয়েছে এবং ব্যতিক্রমী ব্যবস্থা প্রয়োজন। তার দাবি, কিছু ব্যবসায়ী ইসরায়েলি পক্ষের সঙ্গে সম্পর্ক রেখে অতিরিক্ত মুনাফা করতে চায়। তাই প্রয়োজনীয় দায়িত্ব পালন না করলে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয় এবং এটি একটি সরকারি বিষয়।

আই.এ/সকালবেলা

মন্তব্য করুন