‘পালাতে’ গিয়ে আটক দুর্নীতিতে অভিযুক্ত ইউক্রেনের সাবেক জ্বালানি মন্ত্রী

‘পালাতে’ গিয়ে আটক দুর্নীতিতে অভিযুক্ত ইউক্রেনের সাবেক জ্বালানি মন্ত্রী

ইউক্রেনের সাবেক জ্বালানি মন্ত্রীকে আটক করা হয়েছে। একটি ট্রেন থেকে তাকে আটক করা হয়। তিনি ইউক্রেন ছাড়তে চেয়েছিলেন বলে জানিয়েছে কিয়েভ কর্তৃপক্ষ। খবর বিবিসির।

প্রতিবেদনে ব্রিটিশ গণমাধ্যমটি জানিয়েছে, আটককৃত সাবেক জ্বালানি মন্ত্রীর নাম জার্মান গালুশচেঙ্কো। দুর্নীতির অভিযোগে গত বছর তাকে ইউক্রেনের মন্ত্রীসভা থেকে বাদ দেওয়া হয়। ইউক্রেন ছাড়ার সময়ে একটি ট্রেন থেকে তাকে আটক করা হয়। তবে, তিনি কোথায় যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন তা এখনও জানা যায়নি।

গালুশচেঙ্কো ছিলেন তাদের মধ্যে একজন যাদের বিরুদ্ধে গত নভেম্বরে ১০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার আত্মসাতের অভিযোগ উঠে। এ কেলেঙ্কারি ভলোদিমির জেলেনস্কির প্রশাসনকে হুমকিতে ফেলে। দুর্নীতির উৎখাতের কথা বলেই জেলেনস্কি ক্ষমতায় এসেছিলেন।

কেলেঙ্কারির পর জেলেনস্কির চিফ অব স্টাফ অ্যান্ড্রিয়ে ইয়েমাকের বাসায় অভিযান চালানো হয়। এরপরেই পদত্যাগ করেন ইউক্রেন প্রেসিডেন্টে এ ঘনিষ্ঠজন। রাশিয়ার সঙ্গে চলমান যুদ্ধে জেলেনস্কিকে উপদেশ দেওয়া ইয়েমাক ও ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে কেলেঙ্কারির পরও কোনও অভিযোগ উঠেনি।

বিবিসি বলছে, এ কেলেঙ্কারির ফলে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইউক্রেনে নির্বাচন আয়োজনের জন্য চাপ বেড়েছে। ২০২২ সালে যুদ্ধ শুরুর পর ইউক্রেনে নির্বাচন স্থগিত রয়েছে। দেশটির সংবিধান মতেই স্থগিত রয়েছে নির্বাচন।

রবিবার এক বিবৃতিতে ইউক্রেনের অ্যান্টি করাপশন ব্যুরো (নাবু) জানিয়েছে, ‘মিডাস’ মামলায় ডিটেকটিভরা সাবেক জ্বালানি মন্ত্রীকে আটক করেছে যখন কি না তিনি স্টেট সীমান্ত পাড়ি দিচ্ছিলো।

নাবু গালুশচেঙ্কোর নাম না উচ্চারণ করলেও ইউক্রেনের প্রভাবশালী গণমাধ্যমগুলো নিজেদের প্রতিবেদনে তার নাম জানিয়েছে।

গত নভেম্বরে গালুশচেঙ্কোকে যখন জেলেনস্কি পদত্যাগ করতে বলেন তখন তিনি বিচারমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছিলেন। তবে, সেটি ছিল খুব স্বল্প সময়ের জন্য। এর আগে তিন বছর তিনি জ্বালানি মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। গালুশচেঙ্কো জায়গায় দায়িত্ব পাওয়া সেভিতলানা হারয়েনচুকও কেলেঙ্কারিতে জড়িত থাকার অভিযোগে পরে পদত্যাগ করেন।

নাবু গালুশচেঙ্কোর আটক সংক্রান্ত বিষয়ে বিস্তারিত কোনও তথ্য দেয়নি। তবে বলেছে, সময়মতো আপডেট দেওয়া হবে।

রেডিও ফ্রি ইউরোপ নিজেদের প্রতিবেদনে জানিয়েছে, গালুশচেঙ্কোকে পরবর্তী জিজ্ঞাসাবাদের জন্য কিয়েভে নেওয়া হচ্ছে। এর আগে কিয়েভ সীমান্ত রক্ষাকারী বাহিনীকে গালুশচেঙ্কোর পালানো নিয়ে সতর্ক করেছিল।

দীর্ঘ ১৫ মাস অনুসন্ধানের পর কেলেঙ্কারির তথ্যটি উঠে আসে বলে জানিয়েছে নাবু ও ইউক্রেনের অন্য একটি দুর্নীতি প্রতিরোধকারী সংস্থা, স্পেশালাইজড অ্যান্টি করাপশন প্রসিকিউটরস অফিস (এসএপি)। যৌথ এ অনুসন্ধানের নাম দেওয়া হয়েছে ‘অপারেশন মিদাস’। দুটি সংস্থা ইউক্রেনের জ্বালানি খাতে সহ অর্থ আত্মসাতের একটি কৌশল রচনা করার অভিযোগে কয়েকজনকে অভিযুক্ত করেছে।

গালুশচেঙ্কো তাদের মধ্যে একজন, যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে যে তারা পরিকল্পিতভাবে কনট্রাক্টরদের কাছ থেকে প্রকল্পের ১০ থেকে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত অর্থ নিতেন। নাবু ও এসএপি জানিয়েছে, ঘুষের এ অর্থ বিভিন্ন দেশে পাচার করা হয়েছে, যে তালিকায় রাশিয়াও রয়েছে। 

এর আগে গালুশচেঙ্কো নিজের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগগুলো অস্বীকার করেছেন।

অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে গত নভেম্বরে ইউক্রেনের ডেপুটি প্রধানমন্ত্রী ওলেকসি চের্নশোভকে গ্রেফতার করা হয়। অবশ্য পরে তার বিরুদ্ধে নিজের ক্ষমতা অপব্যবহারের অভিযোগ আনা হয়।

দুর্নীতির অভিযোগ উঠা ব্যবসায়ী তিমুর মিন্দিচ ইউক্রেন ছেড়েছেন। জেলেনস্কি যে সম্প্রচার মাধ্যমে কাজ করতেন সেই স্টেশনে অন্যতম মালিক ছিলেন তিনি। 


মন্তব্য করুন