ওয়াফিক শিপলু, বগুড়া: বগুড়া শহরে রেলওয়ের জমি ও জলাশয় দখলের মহোৎসব শুরু হয়েছে। সরকারি আইন তোয়াক্কা না করে রেললাইনের গা ঘেঁষে গড়ে উঠছে একের পর এক অবৈধ দোকানপাট, বসতঘর ও স্থায়ী অবকাঠামো। শহরের সরকারি আজিজুল হক কলেজের প্রধান ফটক এলাকা থেকে শুরু করে রেলওয়ে কলোনি ও স্টেশন সংলগ্ন এলাকাগুলোতে এই দখলদারিত্ব এখন চরম পর্যায়ে। এতে একদিকে যেমন সরকারি সম্পত্তি বেহাত হচ্ছে, অন্যদিকে ট্রেন চলাচল ও জননিরাপত্তা মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়ছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, আজিজুল হক কলেজ গেট সংলগ্ন রেললাইন বরাবর সারি সারি অবৈধ স্থাপনা গড়ে তোলা হয়েছে। অনেক স্থানে রেলওয়ের জলাশয় ও নালা ভরাট করে নির্মাণ করা হয়েছে বড় বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। রেললাইনের নির্ধারিত নিরাপত্তা সীমারেখা লঙ্ঘন করে মাত্র কয়েক ফুট দূরত্বেই ইট-কংক্রিটের কাঠামো দাঁড়িয়ে গেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় এসব দখলদারিত্ব চলছে। প্রতিবাদ করতে গেলে সাধারণ মানুষকে উল্টো হুমকির মুখে পড়তে হচ্ছে। ফলে কয়েক বছর আগেও যে এলাকাগুলো ফাঁকা ও নিরাপদ ছিল, এখন সেখানে মানুষের জটলা ও যান্ত্রিকতায় ট্রেন চলাচলের পথ সংকুচিত হয়ে পড়েছে।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, রেললাইনের এত কাছে স্থাপনা ও জনসমাগম বাড়লে বড় ধরনের প্রাণহানির আশঙ্কা কয়েকগুণ বেড়ে যায়। বিশেষ করে স্থাপনার আড়ালে রেললাইনের দৃশ্যমানতা কমে যাওয়ায় ট্রেন চালকদের জন্য ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। এছাড়া জলাশয় ভরাটের ফলে শহরের পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, যা বর্ষা মৌসুমে দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। পরিবেশবিদদের মতে, এভাবে প্রাকৃতিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা ধ্বংস করা শহরের ভবিষ্যতের জন্য ভয়াবহ হুমকি।
রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ মাঝেমধ্যে নোটিশ দিলেও কার্যকর ও নিয়মিত উচ্ছেদ অভিযান না থাকায় দখলদাররা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রেলওয়ের এক কর্মকর্তা জানান, অবৈধ স্থাপনার তালিকা তৈরি করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে; অনুমোদন পেলেই উচ্ছেদ অভিযান চালানো হবে। তবে সাধারণ মানুষের প্রশ্ন, আইনি দীর্ঘসূত্রতার সুযোগে সরকারি সম্পদ কি এভাবেই পুরোপুরি প্রভাবশালী ও দখলদারদের গ্রাসে চলে যাবে? নিরাপদ ট্রেন চলাচল নিশ্চিতে দ্রুত ও স্থায়ী পদক্ষেপ চায় বগুড়াবাসী।
এম.এম/সকালবেলা
মন্তব্য করুন