গ্রেপ্তারের পর মাওলানা আতাউর রহমান বিক্রমপুরীকে আটকাদেশ (ডিটেনশন) দিয়ে গতকাল বুধবার কাশিমপুর হাইসিকিউরিটি কারাগারে পাঠানো হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে তিন মাসের আটকাদেশ দেওয়া হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।
ঢাকা মহানগর পুলিশের এক বার্তায় বলা হয়, আতাউর রহমানকে নরসিংদী থেকে গ্রেপ্তারের পর তাঁকে গাজীপুর পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। সম্প্রতি বিভিন্ন ঘটনায় সামাজিক মাধ্যমে আতাউর রহমান বেশ সরব ছিলেন।
টঙ্গী পূর্ব থানার ওসি মেহেদী হাসান বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আটকাদেশের পর আতাউর রহমানকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বিশেষ ক্ষমতা আইনে সরকারের এই এখতিয়ার রয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই আদেশ জারি করতে পারে।
মঙ্গলবার রাত থেকেই আতাউর রহমান বিক্রমপুরীর ভক্ত ও অনুসারীরা তাঁর বিষয়ে ফেসবুকে লেখালেখি করছিলেন। ভৈরব থেকে আসার পথে বাস থামিয়ে তাঁকে মাইক্রোবাসে তুলে নেওয়া হয় বলে অনুসারীদের দাবি।
২২ ডিসেম্বর সামাজিক মাধ্যমে বক্তব্য দেন তিনি। সেই ভিডিও পোস্ট করে ক্যাপশন দেন, ‘প্রথম আলোর মামলায় আমাকেও গ্রেপ্তার করুন।’ প্রায় ৩৯ মিনিটের বক্তব্যে তিনি প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার পত্রিকার বিরুদ্ধে নানা মন্তব্য করেছেন।
ফেসবুকে তিনি নিজেকে ‘ফাউন্ডার, প্রিজনার্স রাইটস মুভমেন্ট’, ‘আমির আজাদি আন্দোলন বাংলাদেশ’, ‘প্রিন্সিপাল হুনাফা ইসলামিক স্কুল’, ‘ফাউন্ডার মারকাজুল হুনাফা’ এবং ‘সিইও হুনাফা শপ’ হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন।
তাঁর বাড়ি মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ীর আমতলী গ্রামে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ সালের ২৪ মার্চ ঝিকরগাছা থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দায়ের করা এফআইআরের এজাহারভুক্ত আসামি তিনি।
সম্প্রতি ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যার প্রতিবাদে শাহবাগে আয়োজিত বিক্ষোভের একটি অংশে আতাউর রহমান বিক্রমপুরী নেতৃত্ব দেন।
এর আগে গত অক্টোবরে গাজীপুরের কালিয়াকৈরে এক হিন্দু যুবকের বিরুদ্ধে মাদ্রাসার ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে। একই মাসে গাজীপুরের একটি মসজিদের ইমাম মুফতি মুহিবুল্লাহ মিয়াজীর কথিত ‘অপহরণ’ ঘটনা সারাদেশে বেশ আলোচনার জন্ম দেয়। দুটি ঘটনা নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে তৎপর ছিলেন আতাউর।
মন্তব্য করুন