মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামের বাইশ গজের চারপাশে উদ্দেশ্যহীনভাবে পায়চারি করছিলেন বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম। গতকাল দুপুরে এই সময়ের মধ্যেই ক্রিকেটারদের বর্জনের ডাকে দেশের ক্রিকেট কার্যত অচল হয়ে পড়ে। বোর্ডের কেন্দ্রীয় চুক্তির ক্রিকেটারদের নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করা বিসিবি পরিচালক এম নাজমুল ইসলামের পদত্যাগের দাবিতে খেলোয়াড়রা ছিলেন অনড়।
এর জেরে বিপিএলের দুপুর ১টার ম্যাচ খেলতে হোটেল থেকে চট্টগ্রাম রয়ালস ও নোয়াখালী এক্সপ্রেসের টিম বাস ছাড়েনি। বরং বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজির ক্রিকেটাররা বনানীর এক হোটেলে সংবাদ সম্মেলনের জন্য জড়ো হন। কোয়াব সভাপতি মোহাম্মদ মিঠুনের নেতৃত্বে তারা নিজেদের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন। এর ধারাবাহিকতায় সন্ধ্যার ম্যাচ খেলতেও মাঠে নামেনি রাজশাহী ওয়ারিয়র্স ও সিলেট টাইটানস। ফলে ২০১৯ সালের খেলোয়াড় বিদ্রোহের পর আবারও বড় অচলাবস্থায় পড়ে বাংলাদেশের ক্রিকেট।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপকে সামনে রেখে তৈরি হওয়া এই সংকটের অবসান ঘটে গতকাল মধ্যরাতে। কোয়াব সভাপতি মিঠুন ও ওয়ানডে অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজকে সঙ্গে নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসে বিসিবি পরিচালক ইফতেখার রহমান অচলাবস্থা নিরসনের ঘোষণা দেন।
সমঝোতার ফলে আজ থেকেই মাঠে ফিরছে ক্রিকেট। গতকালের স্থগিত ম্যাচগুলো আজ অনুষ্ঠিত হবে এবং আজকের ম্যাচগুলো পিছিয়ে যাবে আগামীকালে। এক দিনের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে ১৮ জানুয়ারির বিরতিও সূচি থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।
সমাধানের লক্ষ্যে এর আগে দীর্ঘ বৈঠকে বসেন বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম ও কোয়াব নেতারা। বিতর্কিত পরিচালক নাজমুলকে বৈঠকে আনার চেষ্টা করা হলেও তা সম্ভব হয়নি। ইফতেখার রহমান জানান, নাজমুলের সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি, তবে সবাই একমত হয়েছেন যে দ্রুত ক্রিকেট শুরু করাই অগ্রাধিকার।
নাজমুলের প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার দাবিতে অটল থাকলেও বোর্ডের সীমাবদ্ধতা মেনে নিয়ে ক্রিকেটাররা সাময়িকভাবে নমনীয় হন। এরই মধ্যে নাজমুলকে বিসিবির অর্থ কমিটির প্রধানের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় এবং তাঁকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। এসব সিদ্ধান্তের পর মধ্যরাতে দুই পক্ষের আলোচনায় সমাধানের পথ তৈরি হয়।
দিনভর টানাপোড়েনের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র আলোচনা-সমালোচনা চললেও শেষ পর্যন্ত সমঝোতায় পৌঁছে বাংলাদেশের ক্রিকেট আবার মাঠে ফেরার স্বস্তি পেয়েছে।
মন্তব্য করুন