ওয়াসার প্রকল্পে দৃশ্যমান অগ্রগতি চান এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০১:১৮ অপরাহ্ণ
ওয়াসার প্রকল্পে দৃশ্যমান অগ্রগতি চান এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী

অনলাইন প্রতিবেদক: ওয়াসার উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদনের পর তা বাস্তবায়নে দিনের পর দিন অহেতুক সময়ক্ষেপণ আর মেনে নেওয়া হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। আগামী দুই মাসের মধ্যে প্রকল্পগুলোর বাস্তব অগ্রগতি দৃশ্যমান না হলে সংশ্লিষ্ট প্রকল্প পরিচালকদের অপসারণসহ কঠোর শাস্তিমূলক আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে সতর্ক করেছেন তিনি।

আজ বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর ২০২৬) রাজধানীর কারওয়ান বাজারস্থ ঢাকা ওয়াসা ভবনের সম্মেলন কক্ষে ঢাকা ওয়াসার সার্বিক গতিবিধি ও কার্যক্রম পর্যালোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী এ কড়া বার্তা দেন।

চলমান কাজগুলো দ্রুত সম্পন্ন করার তাগিদ দিয়ে এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী বলেন, "দাসেরকান্দি স্যুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট থেকে গুলশান, বনানী ও বারিধারা এলাকার পাইপলাইন সংযোগ দ্রুত শেষ করতে হবে। এর পাশাপাশি পূর্বাচল নতুন শহরে নিরবচ্ছিন্ন পানি সরবরাহ নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে দ্রুত ডিপিপি (ডিপিপি) প্রণয়ন করতে হবে।" তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমানে ঢাকা মহানগরে দৈনিক ৩১৪ কোটি লিটার পানির চাহিদা ও সমপরিমাণ সরবরাহ থাকলেও গত সাত মাসে ওয়াসার কাজে নতুন কোনো উদ্যোগ বা গতি লক্ষ্য করা যায়নি, যা অত্যন্ত হতাশাজনক।

বোর্ডগুলোর ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, "মন্ত্রণালয়ের পর্যালোচনায় দেখা গেছে ওয়াসা বোর্ডগুলো জনসেবামূলক কাজে অনাবশ্যক হস্তক্ষেপ ও জটিলতা তৈরি করছে। তাই সরকার বিদ্যমান আইন সংশোধন করে সারা বাংলাদেশের সব ওয়াসা থেকে ‘বোর্ড’ ব্যবস্থা স্থায়ীভাবে তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।"

ভূগর্ভস্থ পানির উত্তোলন কমিয়ে ভূ-উপরিস্থ পানির (সারফেস ওয়াটার) ব্যবহার বাড়ানোর তাগিদ দিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে সরবরাহকৃত পানির ৭৪ শতাংশ ভূগর্ভস্থ এবং মাত্র ২৬ শতাংশ উপরিভাগের পানি। পরিবেশ রক্ষা ও ভূমিকম্পের ঝুঁকি কমাতে ভূগর্ভস্থ পানির নির্ভরতা দ্রুত ২০-২৫ শতাংশে নামিয়ে আনতে হবে।

প্রতিমন্ত্রী ঢাকা ওয়্যাসাকে একটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে সেবা বজায় রেখে রাজস্ব আয় বাড়ানোর নির্দেশনা দেন, যাতে বিদেশি ঋণের ওপর নির্ভরতা কমে। এছাড়া মিটার রিডিং ও বিলিং ব্যবস্থায় দ্রুত শতভাগ অটোমেশন আনার এবং ২০৫০ সালের চাহিদা বিবেচনায় নতুন অর্গানগ্রাম তৈরি করে মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর নির্দেশ দেন তিনি।

একইসঙ্গে ঢাকা শহরের সব অবৈধ পানির চোরা লাইন অবিলম্বে চিহ্নিত করে উচ্ছেদের তাগিদ দেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট জানান, এসব অপরাধের সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক দুর্বৃত্ত যুক্ত থাকলেও বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না। একইসঙ্গে গ্রাহকসেবা ব্যাহত করা সিবিএ ও কর্মচারী সংগঠনগুলোকে সতর্ক করে দিয়ে পানি অপচয় রোধে সচেতনতামূলক প্রচার চালুর নির্দেশ দেন। দুই মাস পর তিনি পুনরায় পর্যালোচনায় এসে ওয়াসের কাজে আমূল পরিবর্তন দেখতে চান বলে সভার সমাপ্তি টানেন। ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মুহা. মনিরুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সভায় উচ্চপদস্থ প্রকৌশলী ও কর্মচারী প্রতিনিধিগণ উপস্থিত ছিলেন।

সকালবেলা / নুসরাত