আগাম প্রস্তুতির কারণে ডেঙ্গুতে মৃত্যুহার কমেছে: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী
অনলাইন ডেস্ক: ডেঙ্গু পরিস্থিতি ও জলবায়ু পরিবর্তনজনিত স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলায় আগাম তথ্য বিশ্লেষণ, পূর্বাভাস এবং সময়মতো প্রয়োজনীয় স্যালাইন ও চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহ নিশ্চিত করার ফলে দেশে ডেঙ্গুতে মৃত্যুহার আশাব্যঞ্জকভাবে হ্রাস পেয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এম এ মুহিত।
আজ বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর ২০২৬) সকালে রাজধানীর মহাখালীর ব্র্যাক ইন সেন্টারে নলেজ হাব ইনস্টিটিউট কর্তৃক আয়োজিত ‘জলবায়ু পরিবর্তন ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সহনশীলতা’ বিষয়ক পলিসি ডায়ালগে প্রধান অতিথির ভাষণে তিনি এসব তথ্য তুলে ধরেন।
প্রতিমন্ত্রী জানান, রোগের পূর্বাভাস ও বৈজ্ঞানিক তথ্যের ওপর ভিত্তি করে চলতি বছরের জুলাই-আগস্ট মাস থেকেই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সার্বিক প্রস্তুতি গ্রহণ করে। এর ফলে হাসপাতালগুলোতে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও রিহাইড্রেশন স্যালাইনের সরবরাহ সুনিশ্চিত করার পাশাপাশি জনসচেতনতামূলক সামাজিক সচেতনতা ক্যাম্পেইন আগেভাগেই শুরু করা সম্ভব হয়, যা মৃত্যুহার কমাতে মূল ভূমিকা পালন করেছে।
ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ও মৃত্যুর ডেটা বিশ্লেষণ সংক্রান্ত উদ্বেগ প্রকাশ করে ডা. এম এ মুহিত বলেন, "প্রাপ্ত তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ও নিহতের সংখ্যার বিচারে পুরুষের তুলনায় নারীদের মৃত্যুর হার উদ্বেগজনকভাবে বেশি। এর পেছনে সরাসরি চিকিৎসাগত কারণের পাশাপাশি সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গিও ওতপ্রোতভাবে জড়িত।"
তিনি আরও ব্যাখ্যা করে বলেন, আমাদের সমাজে পরিবারের কোনো পুরুষ সদস্য অসুস্থ হলে তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার প্রবণতা দেখা গেলেও নারীদের অসুস্থতাকে অনেক সময় পারিবারিকভাবে কম গুরুত্ব দেওয়া হয়। ফলে অধিকাংশ নারী রোগী অসুস্থ হওয়ার অন্তত তিন দিনেরও বেশি সময় পার করে অত্যন্ত সংকটজনক অবস্থায় হাসপাতালে পৌঁছান। এই ধরনের মারাত্মক বিলম্বের কারণে রোগীর শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে এবং পরবর্তীতে নিবিড় পরিচর্যা সত্ত্বেও চিকিৎসা জটিল হয়ে পড়ে।
জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট চরম তাপপ্রবাহ ও আর্দ্রতা মোকাবিলায় কার্যকর আগাম সতর্কবার্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী। একইসঙ্গে নারী, শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি ও প্রতিবন্ধীদের মতো অতি-ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যঝুঁকি চিহ্নিত করতে আলাদা ডেটাবেজ তৈরির নির্দেশনা দেন তিনি। আগামী ৬ থেকে ৮ মাসের মধ্যে প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ ও গবেষণা রিপোর্ট প্রস্তুত করে নীতিনির্ধারকদের সামনে উপস্থাপন করতে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি আহ্বান জানান প্রতিমন্ত্রী।
সকালবেলা / নুসরাত