প্রাথমিক পাঠ্যক্রমে বিতর্কিত বিষয় বাতিলের দাবি
স্টাফ রিপোর্টার: প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঠ্যক্রমে সংগীত, নৃত্যকলা, নাট্যকলা ও চারু-কারুকলাকে বাধ্যতামূলকভাবে অন্তর্ভুক্ত করার সরকারি উদ্যোগের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস।
আজ বৃহস্পতিবার (১১ জুন) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিশেষ বিবৃতিতে সংগঠনের মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ এই ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
বিবৃতিতে মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ বলেন, “বাংলাদেশের বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণ ধর্মপ্রাণ মুসলমান। তাদের ধর্মীয় মূল্যবোধ, পারিবারিক ঐতিহ্য ও সামাজিক বাস্তবতাকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে কোমলমতি শিশুদের ওপর কোনো বিশেষ সাংস্কৃতিক ধারা বা এজেন্ডা চাপিয়ে দেওয়ার এই আত্মঘাতী উদ্যোগ জনগণের প্রত্যাশার সম্পূর্ণ পরিপন্থী। একটি আদর্শ শিক্ষাব্যবস্থার মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত নৈতিকতা, দায়িত্ববোধ ও দেশপ্রেমে সমৃদ্ধ সুনাগরিক গড়ে তোলা। কিন্তু সেই মহৎ লক্ষ্য থেকে সরে এসে পাঠ্যক্রমে এমন বিতর্কিত বিষয়কে বাধ্যতামূলক করা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন, দেশের প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থায় এখনো তীব্র শিক্ষক সংকট, নাজুক অবকাঠামো এবং শিক্ষার মানোন্নয়নের মতো নানা মৌলিক চ্যালেঞ্জ বিদ্যমান। এসব বাস্তব সমস্যা সমাধানের কার্যকর উদ্যোগ না নিয়ে, নতুন করে বিতর্কের জন্ম দেয় এমন বিষয় সংযোজন করা জাতির প্রকৃত শিক্ষাগত চাহিদাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানোর শামিল।
খেলাফত মজলিসের মহাসচিব বলেন, “কোমলমতি শিশুদের প্রকৃত মেধা ও মানবিক গুণাবলীর বিকাশ নিশ্চিত করতে হলে প্রাথমিক শিক্ষায় নৈতিক, চারিত্রিক ও ধর্মীয় শিক্ষাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। দেশের প্রতিটি বিদ্যালয়ে প্রয়োজনীয় সংখ্যক যোগ্য ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। এর মাধ্যমে শিশুদের মাঝে শৈশব থেকেই সত্যবাদিতা, আমানতদারিতা, মানবিকতা, আল্লাহভীতি ও সামাজিক জবাবদিহিতার শিক্ষা দিতে হবে।”
তিনি দৃঢ়তার সাথে বলেন, নৈতিকতা ও ধর্মীয় মূল্যবোধে সমৃদ্ধ একটি আদর্শ প্রজন্মই ভবিষ্যতে দেশ থেকে ঘুষ, দুর্নীতি, উগ্রবাদ, চাঁদাবাজি, মাদকাসক্তি ও সামাজিক অবক্ষয় রুখে দিতে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারে। একটি সুশাসিত, সমতাভিত্তিক ও দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্র গঠনে ধর্মীয় শিক্ষার গুরুত্ব অপরিসীম।
পরিশেষে, জনগণের ধর্মীয় বিশ্বাস ও সাংস্কৃতিক চেতনার প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে জাতীয় শিক্ষানীতি প্রণয়নের জন্য তিনি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি জোর আহ্বান জানান। একই সাথে এই স্পর্শকাতর বিষয়ে দেশের সর্বস্তরের অভিভাবক সমাজ, আলেম-উলামা, শিক্ষাবিদ ও সচেতন নাগরিকদের সজাগ ও সোচ্চার থাকার অনুরোধ করেন।
এআইএল/সকালবেলা
|