দিল্লির হোটেলে আগুনে দগ্ধ বাংলাদেশি নারীর মৃত্যু
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির একটি হোটেলে লাগা ভয়াবহ ও মর্মান্তিক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় দগ্ধ এক বাংলাদেশি নারী চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। গত ৩ জুনের ওই প্রলয়ংকরী অগ্নিকাণ্ডের পর থেকে তিনি দিল্লির একটি হাসপাতালে অত্যন্ত গুরুতর অবস্থায় লাইফ সাপোর্টে ছিলেন। দীর্ঘ এক সপ্তাহ মৃত্যুর সাথে লড়াই করার পর অবশেষে গতকাল বুধবার (১০ জুন) তিনি শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন বলে ভারতের শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস এক প্রতিবেদনে নিশ্চিত করেছে।
আজ বৃহস্পতিবার (১১ জুন) দুপুর ১২টা ৩২ মিনিটে অনলাইন সংস্করণে প্রকাশিত ‘দিল্লি অগ্নিকাণ্ড, ক্যাজুয়াল্টি ট্র্যাকিং ও ফরেন মিশন খতিয়ান’ এবং ‘গ্লোবাল ক্রাইম, ডিজাস্টার রেসপন্স ও হিউম্যান ট্র্যাজেডি উইং’-এর বিশেষ যৌথ বুলেটিংয়ে এই মৃত্যুর খবর ও বিস্তারিত খতিয়ান তুলে ধরা হলো।
নয়াদিল্লির স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গত ৩ জুন দিল্লির ‘হাউজ রানি বেড অ্যান্ড ব্রেকফাস্ট (বিঅ্যান্ডবি)’ নামের একটি মাঝারি মানের আবাসিক হোটেলে আকস্মিক অগ্নিকাণ্ড ঘটে। ওই ঘটনার পর গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় এই বাংলাদেশি নারীকে দিল্লির অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেস (এআইআইএমএস) ট্রমা সেন্টারে ভর্তি করা হয়েছিল। হাসপাতালের চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, আগুনে তাঁর শরীরের বেশিরভাগ অংশই মারাত্মকভাবে পুড়ে গিয়েছিল (মেজর বার্ন)। যার ফলে প্রথম থেকেই তাঁর অবস্থা আশঙ্কাজনক ছিল। দিল্লির পুলিশের ডেপুটি কমিশনার (দক্ষিণ) অনন্ত মিত্তাল গতকাল বুধবার ওই বাংলাদেশি নারীর মৃত্যুর বিষয়টি অফিশিয়ালি নিশ্চিত করেছেন। তবে তাৎক্ষণিকভাবে ওই নারীর নাম বা বাংলাদেশের কোন জেলার বাসিন্দা, তা প্রকাশ করেনি পুলিশ।
দিল্লির ওই হোটেলে লাগা আগুনের ভয়াবহতা এতটাই তীব্র ছিল যে, গত ৩ জুন ঘটনার রাতেই ধোঁয়ায় দম আটকে এবং আগুনে পুড়ে ঘটনাস্থলেই ২১ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়। এ ছাড়া আরও অন্তত ৪৯ জনকে মারাত্মক দগ্ধ ও আহত অবস্থায় দিল্লির বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। হাসপাতালে চিকিৎসাধীনদের মধ্যে গত রবিবার আরও একজনের মৃত্যু হয়। আর গতকাল বুধবার এই বাংলাদেশি নারীর মৃত্যুর পর এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় মোট নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৩ জনে।
দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, শর্ট সার্কিট থেকে নাকি অন্য কোনো কারণে হোটেলের হাউজ রানি ভবনে এই ভয়াবহ আগুন লেগেছিল, তা খতিয়ে দেখতে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। একই সাথে হোটেলটির অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থার কোনো ঘাটতি ছিল কি না, তাও খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারী কর্মকর্তারা। এদিকে দিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনের পক্ষ থেকে নিহত নারীর মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য প্রয়োজনীয় আইনি ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
জান্নাত সকালবেলা
|