বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে শিক্ষাই হবে প্রধান চালিকাশক্তি: শিক্ষামন্ত্রী

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬, ০১:১৬ অপরাহ্ণ
বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে শিক্ষাই হবে প্রধান চালিকাশক্তি: শিক্ষামন্ত্রী
অনলাইন ডেস্ক:দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন, আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে টেকসই সক্ষমতা অর্জন এবং দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে শিক্ষা খাতই বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ চাবিকাঠি। এই খাতের আমূল পরিবর্তন ও মানোন্নয়নের মাধ্যমে বিশ্ব প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দেওয়ার উপযোগী করতে রাষ্ট্র সর্বাত্মক চেষ্টা চালাচ্ছে।

আজ বৃহস্পতিবার (১১ জুন) দুপুর ১টা ৫ মিনিটে অনলাইন সংস্করণে প্রকাশিত ‘শিক্ষাঙ্গন খতিয়ান, প্রাতিষ্ঠানিক কারিকুলাম ও একাডেমিয়া’ এবং ‘মানবসম্পদ উন্নয়ন, টেকনিক্যাল এডুকেশন ও গ্লোবাল স্কিলস উইং’-এর বিশেষ যৌথ বুলেটিংয়ে শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্যের মূল খতিয়ান বিস্তারিত তুলে ধরা হলো।

গতকাল বুধবার (১০ জুন) রাতে রাজধানীর মিরপুর সেনানিবাসে অবস্থিত মিলিটারি ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (এমআইএসটি)-এর শহীদ ইয়ামিন অডিটোরিয়ামে এক বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও গ্র্যাজুয়েশন ডিনারের আয়োজন করা হয়। উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

শিক্ষামন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে বলেন, আমাদের দেশ এত বিশাল সম্পদের দেশ এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর। আমরা কোনোভাবেই বিশ্বের অন্যান্য দেশের চেয়ে পিছিয়ে থাকতে পারি না। একটি মাত্র জায়গায় আমাদের ঘাটতি রয়েছে, আর সেটি হলো শিক্ষা খাত। এই শিক্ষা খাতে যদি আমরা বৈপ্লবিক উন্নয়ন ঘটাতে পারি, তবে বিশ্ব প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ অবশ্যই অন্য সবার চেয়ে এগিয়ে যাবে।

মন্ত্রণালয়ের কাজের পরিধি ও বাজেট বরাদ্দ নিয়ে মন্ত্রী জানান, দেশের সব মন্ত্রণালয়ের মধ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয় সবচেয়ে বড় এবং গুরুত্বপূর্ণ। এই বিশাল খাতের গুরুত্ব বিবেচনা করে চলতি অর্থবছরে শিক্ষায় সর্বোচ্চ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বিগত অর্থবছরে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বাজেট যেখানে ছিল ৮৮ হাজার কোটি টাকা, এবার তা উল্লেখযোগ্য হারে বাড়িয়ে ১ লাখ ২৩ হাজার কোটি টাকায় উন্নীত করা হয়েছে।

বাজেটের ভেতরের সমীকরণ স্পষ্ট করে তিনি বলেন, গত বছর ৮৮ হাজার কোটি টাকার বাজেটের মধ্যে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও আইসিটি মন্ত্রণালয়ের কিছু আনুষঙ্গিক ব্যয় একত্রে যুক্ত করা হয়েছিল। কিন্তু এবার শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পূর্ণ নিজস্ব কাজের জন্য এককভাবে ১ লাখ ২৩ হাজার কোটি টাকার বাজেট পেয়েছে। আগামী দিনগুলোতে দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধির সাথে সাথে শিক্ষা খাতের এই রাষ্ট্রীয় বরাদ্দ ধাপে ধাপে আরও বাড়ানো হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।

নিজের রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত জীবনের সততার প্রসঙ্গ টেনে ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানান, দেশে ফিরে ১৯৯৬ সালের সাধারণ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার উদ্দেশ্যে তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব স্থায়ীভাবে ত্যাগ করেছিলেন। পরবর্তীতে তিনি দেশের শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী হিসেবেও অত্যন্ত সফলতার সাথে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, দেশকে সততার সাথে সেবা করার তীব্র আকাঙ্ক্ষা নিয়েই আমি মাতৃভূমিতে ফিরেছিলাম, কোনো ধরনের দুর্নীতির আশ্রয় নেওয়ার জন্য নয়। দুর্নীতির মোহে আমি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব বিসর্জন দিইনি।

মন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, ভৌগোলিক অবস্থান ও তরুণ প্রজন্মের মেধার কারণে বাংলাদেশকে উচ্চশিক্ষার একটি আন্তর্জাতিক বা আঞ্চলিক কেন্দ্র তথা ক্রস-বর্ডার এডুকেশন হাব (Cross-Border Education Hub) হিসেবে গড়ে তোলার চমৎকার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন নামী ও উচ্চমানের বিশ্ববিদ্যালয় এখন বাংলাদেশে তাদের শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা ও ক্যাম্পাস স্থাপনে বিশেষ আগ্রহ দেখাচ্ছে। দেশের তরুণ সমাজকে দেশের সবচেয়ে বড় শক্তি আখ্যায়িত করে জনসংখ্যাকে অভিশাপ না ভেবে আর্শীবাদে রূপান্তরের জন্য কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

জান্নাত সকালবেলা

মন্তব্য করুন