লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন ও ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি। ছবি: সংগৃহীত
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধে লেবাননকে ইরান দর-কষাকষির ঘুঁটি হিসেবে ব্যবহার করছে বলে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন। তেহরানের শাসকদের তীব্র তিরস্কার ও আইআরজিসির প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, ‘এটি আপনাদের দেশ নয়’। আজ শুক্রবার (৫ জুন) বৈরুতে প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন-এর সাংবাদিক ক্রিশ্চিয়ান আমানপোরকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে আউন লেবাননের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে তেহরানের হস্তক্ষেপ বন্ধের দাবি জানান। তিনি বলেন, লেবাননের জনগণ ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যকার যুদ্ধ নিয়ে চরমভাবে বিরক্ত।
ইরান সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী ও রাজনৈতিক দল হিজবুল্লাহকে লেবাননের ভেতরে আরেকটি রাষ্ট্র (স্টেট উইদিন স্টেট) হিসেবে বিবেচনা করা হয়। সাক্ষাৎকারে ইরানকে উদ্দেশ্য করে প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন বলেন, ‘আপনারা আমাদের সাহায্য করার চেষ্টা করছেন না। আপনাদের স্বার্থের জন্য লেবাননের মানুষ মূল্য দিচ্ছে। আমাদের স্বার্থ, আপনাদের স্বার্থের সঙ্গে মেলে না।’ বিশেষ করে দেশটির বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘এটি আপনাদের দেশ নয়। এটি আমাদের দেশ।’
একটি যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে গত বুধবার ইসরায়েল ও লেবানন একটি চুক্তিতে পৌঁছালেও হিজবুল্লাহ এই চুক্তির অংশ নয় এবং তারা এটি প্রত্যাখ্যান করেছে। হিজবুল্লাহর দাবি, এই চুক্তি দক্ষিণ লেবানন থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের কোনো নিশ্চয়তা দেয় না। তবে আউন মনে করেন, এই চুক্তিটি স্থায়ী শান্তির পথে এগিয়ে যাওয়ার একটি বড় মাধ্যম হতে পারে। আউনের নেতৃত্বে লেবাননের সামরিক বাহিনী হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করার অঙ্গীকার করলেও এ কাজে তারা এখন পর্যন্ত সফল হতে পারেনি। আশির দশকে দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি উপস্থিতির বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য ইরানের সমর্থন ও প্রশিক্ষণে হিজবুল্লাহ গঠিত হয়েছিল।
সাক্ষাৎকারে লেবাননের বেসামরিক নাগরিকদের ছবি দেখিয়ে আউন বলেন, ইসরায়েলি হামলায় বহু পরিবার নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। এই মানুষগুলো লেবাননের সাধারণ নাগরিক, তারা হিজবুল্লাহর নেতা নাঈম কাসেমের লোক নয়। এমনকি নাঈম কাসেমও লেবাননের জনগণের প্রতিনিধিত্ব করেন না বলে তিনি মন্তব্য করেন। ১৯৪৮ সালে রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠার পর থেকেই ইসরায়েল প্রতিবেশী লেবাননের সঙ্গে যুদ্ধাবস্থায় আছে। দুই দেশের মধ্যে চলমান সংঘাতের সূত্রপাত হয় গত মার্চ মাসে, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার পর প্রতিশোধ নিতে হিজবুল্লাহ তেলআবিবে রকেট ছোড়ে। এরপর হিজবুল্লাহকে লক্ষ্য করে লেবাননে আগ্রাসন শুরু করে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী, যাতে গত তিন মাসে সাড়ে তিন হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন এবং বাস্তুচ্যুত হয়েছে লেবাননের জনসংখ্যার এক-পঞ্চমাংশ।