দিনাজপুরে এক লিচু ১১ টাকা

প্রকাশ: মঙ্গলবার, ০২ জুন ২০২৬, ০৫:২১ অপরাহ্ণ
দিনাজপুরে এক লিচু ১১ টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক: উন্নতমানের লিচুর অন্যতম প্রধান উৎপাদন কেন্দ্র দিনাজপুরে চলতি মৌসুমে লিচুর বাজারে রেকর্ড দাম দেখা গেছে। জেলার খানসামা উপজেলায় জনপ্রিয় চায়না–৩ জাতের লিচু খুচরা বাজারে প্রতি পিস ১০ থেকে ১১ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ফলে মাত্র ১০০টি লিচু কিনতে সাধারণ ক্রেতাদের গুনতে হচ্ছে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ১০০ টাকা, যা মধ্যবিত্ত ও সাধারণ আয়ের মানুষের জন্য একটি বড় চাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

উপজেলার বিভিন্ন বাগান ও বাজার ঘুরে দেখা গেছে, গত কয়েক বছরের সব রেকর্ড ভেঙে এবার লিচুর দাম অস্বাভাবিক রূপ নিয়েছে। বড় আকার, আকর্ষণীয় রং আর সুস্বাদের কারণে বাজারে চায়না–৩ জাতের লিচুর চাহিদা সবসময়ই শীর্ষে থাকে। তবে চলতি মৌসুমে আশানুরূপ ফলন না হওয়ায় বাজারে সরবরাহ একেবারেই সীমিত, যার কারণে বাগান পর্যায় থেকেই লিচু উচ্চমূল্যে বিক্রি হচ্ছে।

চাষি ও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মতে, মৌসুমের শুরুতে কয়েক দফায় শিলাবৃষ্টি এবং বৈরী আবহাওয়ার কারণে লিচুর গুটি ঝরে পড়ে। ফলে উৎপাদন কমে গিয়ে বাজারে সরবরাহ সংকট তৈরি হয়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে খুচরা মূল্যে।

লিচুর এমন আকাশচুম্বী দামের কারণে হতাশ সাধারণ ক্রেতারা। স্থানীয় গৃহিণী কোহিনুর বেগম জানান, আগে অতিথি আপ্যায়নে লিচু রাখা স্বাভাবিক বিষয় হলেও এখন ১০০ লিচুর দাম এক হাজার টাকা হওয়াটা মধ্যবিত্তের জন্য বড় বোঝা। সীমিত আয়ের অভিভাবক একরামুল হক বাবু বলেন, “নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম সামলে বাচ্চাদের জন্য এখন মৌসুমি ফল কেনা বিলাসিতা হয়ে দাঁড়িয়েছে।” একই ক্ষোভ প্রকাশ করে আল আমিন নামের আরেক ক্রেতা বলেন, এভাবে দাম বাড়তে থাকলে লিচু শেষ পর্যন্ত শুধু ধনীদের ফল হয়েই থাকবে।

খানসামা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ ইয়াসমিন আক্তার জানান, চলতি মৌসুমে উপজেলায় প্রায় ১৪৫ হেক্টর জমিতে ছোট-বড় মিলিয়ে ১৩০টি বাগানে লিচুর চাষ হয়েছে। চায়না–৩ ও মাদ্রাজি জাতের লিচু থেকে ভালো ফলনের আশা থাকলেও মূলত প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণেই সামগ্রিক উৎপাদন কিছুটা মার খেয়েছে।

অন্যদিকে, জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. আফজাল হোসেন জানান, লিচুর মৌসুম শুরুর পর থেকেই মাঠকর্মীরা বাগান মালিকদের নিয়মিত পরামর্শ দিয়ে আসছেন। চৈত্র–বৈশাখে এবং জ্যৈষ্ঠ মাসের মাঝারি বৃষ্টিপাতের কারণে লিচু রক্ষায় বিশেষ উদ্যোগ নেওয়ায় অনেক ক্ষেত্রে ক্ষতি কমানো সম্ভব হয়েছে। তিনি আরও আশার বাণী শুনিয়ে জানান, চলতি বছর সুস্বাদু বেদানা লিচুসহ কয়েকটি জাত বিদেশে রপ্তানির আগ্রহ দেখা গেছে এবং আগ্রহী দেশগুলোর চাহিদা অনুযায়ী লিচু পাঠানোর প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে।

মন্তব্য করুন