আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরান কখনও পরমাণু অস্ত্র তৈরি করবে না— তেহরানের কাছ থেকে এমন একটি সুনির্দিষ্ট গ্যারান্টি তিনি পেয়েছেন। স্থানীয় সময় গত শনিবার (৩০ মে) দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এই চাঞ্চল্যকর দাবি করেন।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষাৎকারটি নিয়েছিলেন তাঁর পুত্রবধূ লারা ট্রাম্প, যিনি ট্রাম্পের তৃতীয় সন্তান এরিক ট্রাম্পের স্ত্রী। সম্প্রতি লারা ট্রাম্পের নিজস্ব পডকাস্ট শো’তে অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়েছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন শীর্ষ সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজ এই পডকাস্ট শোটি সরাসরি সম্প্রচার করেছে। সাক্ষাৎকারে নিজের অবস্থান তুলে ধরে ট্রাম্প বলেন, “ইরান কখনও পরমাণু অস্ত্র তৈরি করবে না— এমন একটি গ্যারান্টি আমি শুরু থেকেই চাইছিলাম। চমৎকার ব্যাপার হলো, তারা শেষ পর্যন্ত এ ব্যাপারে রাজি হয়েছে।”
তবে ডোনাল্ড ট্রাম্প এমন দাবি করলেও ইরানের স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলোতে এর কোনো সত্যতা বা প্রতিফলন পাওয়া যায়নি। ইরানের বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় ও স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে উল্টো দাবি করে বলা হয়েছে, ওয়াশিংটন তেহরানের যে ১ হাজার ২০০ কোটি ডলারের তহবিল ফ্রিজ বা অবমুক্ত না করে আটকে রেখেছে, সেই অর্থ পুরোপুরি অবমুক্ত করলেই কেবল যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পরবর্তী আনুষ্ঠানিক আলোচনায় বসবে ইরান। ইরানি গণমাধ্যমগুলোতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে— ইরানের ৬০ শতাংশ বিশুদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত ধ্বংস করা হবে বলে ট্রাম্প যে দাবি করেছেন, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
উল্লেখ্য, ইরানের বিতর্কিত পরমাণু প্রকল্পকে কেন্দ্র করে দীর্ঘ প্রায় দুই যুগ ধরে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে তীব্র কূটনৈতিক ও সামরিক টানাপোড়েন চলছে। দীর্ঘ সময় ধরে ওয়াশিংটনের দাবি ছিল, শান্তিপূর্ণ পরমাণু প্রকল্পের আড়ালে ইরান মূলত পরমাণু অস্ত্র তৈরি করার গোপন চেষ্টা চালাচ্ছে। তবে ইরান শুরু থেকেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই দাবিকে আন্তর্জাতিক মহলে সবসময় জোরালোভাবে প্রত্যাখ্যান করে আসছে।
এই দীর্ঘস্থায়ী টানাপোড়েনের ধারাবাহিকতায় গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যৌথভাবে আকস্মিক সামরিক অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। টানা ৪০ দিন ধরে রক্তক্ষয়ী ও তীব্র সংঘাত চলার পর অবশেষে মার্কিন বাহিনীর সঙ্গে ইরান একপক্ষীয় যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করতে বাধ্য হয়। দুই পক্ষের মধ্যে স্বাক্ষরিত সেই যুদ্ধবিরতি এখনও পর্যন্ত মাঠপর্যায়ে কার্যকর রয়েছে।