বি এম ফয়সাল, কুবি প্রতিনিধি: প্রতিষ্ঠার দুই দশকে পা রাখা কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) গত ১৯ বছরে ৯ জন উপাচার্য দায়িত্ব পেলেও পূর্ণ মেয়াদ শেষ করতে পেরেছেন মাত্র ৩ জন। রাজনৈতিক অস্থিরতা, অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও প্রশাসনিক বৈষম্যের কারণে অধিকাংশ উপাচার্যকেই মেয়াদের আগে বিদায় নিতে হয়েছে। সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার (১৪ মে) বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক ড. এম.এম শরীফুল করীম ৯ম উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন।
২০০৬ সালে প্রতিষ্ঠিত এই বিশ্ববিদ্যালয়ে ৪ বছর পূর্ণ মেয়াদে দায়িত্ব পালন করেছেন কেবল অধ্যাপক ড. আমির হোসেন খান, অধ্যাপক ড. মো. আলী আশরাফ এবং অধ্যাপক ড. এমরান কবির চৌধুরী। বিপরীতে, প্রতিষ্ঠাকালীন উপাচার্য ড. গোলাম মাওলাসহ অধ্যাপক ড. এইচ এম জেহাদুল করিম ও অধ্যাপক ড. এ.এফ.এম আব্দুল মঈন মেয়াদের আগেই দায়িত্ব ছেড়েছেন। সদ্য বিদায়ী উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. হায়দার আলী দায়িত্ব পালন করেছেন মাত্র ১ বছর ৭ মাস ২১ দিন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য ও প্রতিষ্ঠাকালীন শিক্ষক অধ্যাপক ড. মাসুদা কামাল বলেন, “প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির অমিল এবং প্রশাসনিক বৈষম্য থেকেই ক্ষোভ ও আন্দোলনের সূত্রপাত হয়। আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকলে এবং জাজমেন্টাল না হলে এমন পরিস্থিতি এড়ানো সম্ভব।” অন্যদিকে রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন মনে করেন, উপাচার্যদের ঘিরে স্বার্থান্বেষী মহলের ব্যক্তিগত এজেন্ডা এবং অভ্যন্তরীণ গ্রুপিংই বিশ্ববিদ্যালয়কে অস্থিতিশীল করে তোলে।
অধ্যাপক ড. এম.এম শরীফুল করীম বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব শিক্ষক হওয়ায় তাঁকে ঘিরে সাধারণ শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে আশার আলো তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, আইনের কঠোর প্রয়োগ এবং পক্ষপাতহীন প্রশাসনিক কার্যক্রম নিশ্চিত করা গেলে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে দীর্ঘমেয়াদী স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে।
এ.আই.এল/সকালবেলা