আবার থোকায় থোকায় ঝুলুক গোলাপ জাম

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬, ১১:৪৪ পূর্বাহ্ণ
আবার থোকায় থোকায় ঝুলুক গোলাপ জাম

নব্বইয়ের দশকে যাদের শৈশব কেটেছে গ্রামবাংলায়, তাদের স্মৃতির পাতায় অমলিন হয়ে আছে গোলাপ জাম। স্কুল ছুটির পর দল বেঁধে গাছ থেকে তাজা ফল পেড়ে খাওয়া আর ফলের ভেতরের বীজের সেই ‘খটখট’ শব্দ শোনা ছিল এক দারুণ রোমাঞ্চ। অথচ সময়ের বিবর্তনে সুস্বাদু ও সুমিষ্ট ঘ্রাণের এই ফলটি এখন প্রায় বিলুপ্তির পথে।

গোলাপ জামের বৈজ্ঞানিক নাম Syzygium jambos। এটি মূলত দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ফল। মাঝারি আকৃতির চিরসবুজ এই গাছ গড়ে ৫০ থেকে ৬০ বছর বাঁচে। এর পাতা গাঢ় সবুজ এবং ফুল অনেকটা সাদা রঙের জামরুল ফুলের মতো। মাঘ-ফাল্গুন মাসে গাছে ফুল আসে এবং বৈশাখ থেকে শ্রাবণ মাসের মধ্যে ফল পাকে।

গোলাপ জাম দেখতে ছোট পেয়ারা বা বড়ইয়ের মতো গোলাকার। কাঁচা অবস্থায় সবুজাভ থাকলেও পাকলে এটি সাদাটে বা ঘিয়ে রঙের হয়। এই ফলের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো এর ঘ্রাণ। কামড় দিলেই গোলাপজলের মতো মিষ্টি সুবাস ছড়িয়ে পড়ে, যা পৃথিবীতে অন্য কোনো ফলে পাওয়া যায় না।

প্রতি ১০০ গ্রাম গোলাপ জামে ১০৫ কিলো ক্যালরি শক্তি রয়েছে। এটি ভিটামিন সি, বি১, বি২, ক্যালসিয়াম ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্টে ভরপুর। এর ছাল, পাতা ও বীজ ডায়রিয়া এবং কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে সাহায্য করে। এ ছাড়া এটি ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য উপকারী এবং গরমে শরীর ঠান্ডা রাখে।

বাংলার জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং নতুন প্রজন্মের কাছে এই ঐতিহ্যের স্বাদ পৌঁছে দিতে গোলাপ জাম গাছ রক্ষা করা প্রয়োজন। বর্তমানে দেশজুড়ে চলমান বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আওতায় যদি গোলাপ জাম গাছ রোপণ করা হয়, তবে আবারও গ্রাম-গঞ্জের গাছে গাছে থোকায় থোকায় ঝুলবে এই সুমিষ্ট ফল।

জান্নাত/সকালবেলা

মন্তব্য করুন