কলকাতায় গিয়ে আমাদের বাঙালির সার্টিফিকেট নিতে হবে না: তথ্যমন্ত্রী

প্রকাশ: শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ০৬:০৩ অপরাহ্ণ
কলকাতায় গিয়ে আমাদের বাঙালির সার্টিফিকেট নিতে হবে না: তথ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক: তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, “যারা ৫৬ হাজার বর্গমাইলের বাংলাদেশে বাংলা ভাষায় কথা বলেন, আর যারা দেশের বাইরে বাংলা বলেন, তাদের ভাষা এক হলেও মনোজগতে বিশাল পার্থক্য রয়েছে। এ কারণে আমাদের সংস্কৃতির পরিচয় বা বাঙালির সার্টিফিকেট নিতে সীমান্তের ওপারে কিংবা কলকাতায় যাওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই। আমরা নৃতাত্ত্বিকভাবে ও ঐতিহাসিকভাবে বাংলাদেশি।”

আজ শনিবার (১৩ জুন) দুপুরে রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের (আইডিইবি) মুক্তিযোদ্ধা মিলনায়তনে ‘দেশ পুনর্গঠনে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী বলেন, “আমাদের ক্ষণজন্মা রাষ্ট্রনায়ক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ দর্শনটি একটি বিরাট ভূ-রাজনৈতিক অর্জন। আমরা যদি ১৪০ কোটি আর ২০ কোটি মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করতে চাই, তবে সার্ক-এর আওতাধীন ২২০ কোটি মানুষকেও পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে ঐক্যবদ্ধ করতে হবে। যারা আঞ্চলিক এই ঐক্য চাইবে না, আমরা তাদের উদ্দেশ্যকে সন্দেহের চোখে দেখবো। আঞ্চলিক সমৃদ্ধির জন্য ‘সার্ক’ এবং আন্তর্জাতিকভাবে ‘জাতিসংঘ’— এই দুই ফোরামকে কার্যকর রেখেই আমরা কূটনৈতিকভাবে এগিয়ে যেতে চাই।”

জহির উদ্দিন স্বপন আরও বলেন, “যখনই এই জাতি চরম রাজনৈতিক ও সামাজিক সংকটে নিমজ্জিত ছিলো, তখনই দেশকে ঐক্যবদ্ধ করার দূরদর্শী নেতৃত্ব দিয়েছেন আমাদের নেতা তারেক রহমান। তাঁর দেওয়া যুগান্তকারী স্লোগান— ‘দেশ যাবে কোন পথে, ফয়সালা হবে রাজপথে’ এবং ‘যদি তুমি ভয় পাও তবে তুমি শেষ, যদি ঘুরে দাঁড়াও তবে তুমিই বাংলাদেশ’— দেশের ছাত্র-জনতাকে জুলাই আন্দোলনের মূল শক্তি ও সাহস জুগিয়েছিল। এর ফলশ্রুতিতেই আমরা চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পর দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য একটি জাতীয় নির্বাচন আদায় করতে পেরেছি।”

তিনি বর্তমান জাতীয় সংসদের কার্যকারিতা তুলে ধরে বলেন, “অতীতের একতরফা ও ডামি সংসদের তুলনায় বর্তমান সংসদ প্রকৃত অর্থেই জনগণের কল্যাণ ও অধিকার রক্ষায় কাজ করছে। তবে বর্তমান ভূ-রাজনীতিতে আমাদের বন্ধুর পথ পাড়ি দেওয়ার ক্ষেত্রে কে প্রকৃত বন্ধু, আর কে দীর্ঘমেয়াদী বা স্বল্পমেয়াদী বন্ধু— তা সতর্কতার সাথে নিখুঁতভাবে চিহ্নিত করতে হবে। কোনো হঠকারী সিদ্ধান্ত বা কে কার শত্রু বা সমর্থক, সেই বিতর্কে জড়ালে আমাদের মূল লক্ষ্যভ্রষ্ট হতে পারে।”

অনুষ্ঠানে তথ্যমন্ত্রী জানান, আগামী ৫ আগস্ট বাংলাদেশের সর্বশেষ মহান ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান ও চূড়ান্ত বিজয়ের দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে ‘আমরা বাংলাদেশি’ নামের একটি জাতীয় সংগঠনের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হতে পারে।

সংগঠনটির মূল উদ্যোক্তা সৈয়দ এহসানুল হুদার সভাপতিত্বে ও তমিজ উদ্দিন টিটুর সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন— বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নূরুল হক নূর, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, সংসদ সদস্য শাহাদাত হোসেন সেলিম (লক্ষ্মীপুর-১), বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ, যুবনেতা রাশেদ খান ও মোমিনুল আমিনসহ প্রমূখ।

এআইএল/সকালবেলা

মন্তব্য করুন