হেনস্তাকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তি চান ক্রিকেটার নাঈম হাসান

প্রকাশ: শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ০৫:৩৪ অপরাহ্ণ
হেনস্তাকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তি চান ক্রিকেটার নাঈম হাসান

ক্রীড়া প্রতিবেদক: চট্টগ্রাম বিমানবন্দর থেকে বাসায় ফেরার পথে খুলশী থানা পুলিশের হাতে আটক, মারধর ও হেনস্তার শিকার হওয়ার পর সংবাদ সম্মেলন করেছেন বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের স্পিনার নাঈম হাসান। ঘটনার পরদিন শনিবার (১৩ জুন) বিকেলে সংবাদ সম্মেলনে এসে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার বর্ণনা দিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তির ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি। এই ঘটনায় নাঈমের ভাই সাব্বির হাসান বাদী হয়ে খুলশী থানায় তিনজনকে আসামি করে মামলা করেছেন এবং অভিযুক্ত তিন পুলিশ সদস্যকে থানা থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে।

শনিবার বিকেলে সংবাদ সম্মেলনে এসে ক্রিকেটার নাঈম জানান, শুক্রবার রাতে চট্টগ্রাম বিমানবন্দর থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে টোল প্লাজা এলাকায় পৌঁছালে কয়েকজন ব্যক্তি তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন। তিনি সহযোগিতা করলেও তাঁরা কোনো কথা না শুনে তাঁকে ধাক্কা দেন এবং অটোরিকশাটি আটকে রাখেন। আশপাশে থাকা ব্যক্তিরা তাঁর ক্রিকেটার পরিচয় নিশ্চিত করলেও পুলিশ সদস্যরা তা আমলে না নিয়ে সন্দেহভাজন হিসেবে দুর্ব্যবহার করতে থাকেন এবং একপর্যায়ে জোরপূর্বক গাড়িতে তুলে খুলশী থানায় নিয়ে যান।

ঘটনার বিবরণ দিয়ে নাঈম বলেন, ‘টোল প্লাজায় একজন ট্রাফিক পুলিশ আমাদের থামায় এবং একজন গাড়ি চেক করে। এরপর পরিস্থিতি দ্রুত পাল্টে যায়। কোনো কারণ না জানিয়েই জোর করে গাড়িতে তোলার চেষ্টা করা হয়। এসআই শফিক আমাকে ধাক্কা দিয়ে সিএনজির ভেতর ঢুকিয়ে লক করে দেয়। আমি ভয় পেয়ে জিজ্ঞেস করছিলাম কী হয়েছে। তখন এসআই শফিক আমাকে বলেন— তুই আসামি। তুই চুপ থাক, একটাও কথা বলবি না। এরপর আমার গলা চেপে ধরা হয় এবং লাঠি দিয়ে আঘাত করা হয়। আমি চিৎকার করে আব্বুকে কল দিলে আমার মোবাইল ফোনও কেড়ে নেওয়া হয়।’

থানায় নিয়ে যাওয়ার পর ওসির সামনেও নাজেহাল করা হয়েছে উল্লেখ করে জাতীয় দলের এই ক্রিকেটার বলেন, ‘থানায় ওসির সামনেও আমাকে নাজেহাল করা হয়েছে। ওসি আমাকে বলেন— চোখ নামিয়ে কথা বলো। আমি বলেছি যে আমি জাতীয় দলের খেলোয়াড়, আমি টেস্ট খেলি। সেখানে উপস্থিত প্রায় ১০০ জন মানুষ আমার পরিচয় নিশ্চিত করলেও পুলিশ শোনেনি। আমি বলেছি যে আমার গায়ে হাত দেওয়ার অধিকার আপনার নেই, তবুও এসআই শফিক আমাকে মেরেছে। পরে বিভিন্ন পরিচিতজন ও সংশ্লিষ্ট মহল থেকে থানায় ফোন আসতে শুরু করলে পুলিশ বিষয়টি বুঝতে পারে এবং এরপর আমাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।’

মন্তব্য করুন