খরচার হাওরে ফসলের ক্ষতি: কৃষকের চোখে জল

আমিরুল ইসলাম
প্রকাশ: শুক্রবার, ০৮ মে ২০২৬, ০৯:১৬ অপরাহ্ণ
খরচার হাওরে ফসলের ক্ষতি: কৃষকের চোখে জল

খন্দকার শহীদুল ইসলাম, সুনামগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি: সুনামগঞ্জের বিস্তীর্ণ খরচার হাওরে চলতি বোরো মৌসুমে প্রকৃতি দুই ভিন্ন রূপ ধারণ করেছে। একদিকে আগাম ধান ঘরে তুলে কিছু কৃষকের মুখে স্বস্তির হাসি থাকলেও, অন্যদিকে জলাবদ্ধতা ও টানা বৃষ্টিতে হাওরের দক্ষিণ-পশ্চিমাংশের হাজার হাজার কৃষকের স্বপ্ন এখন পানির নিচে। বিশেষ করে ২৬ এপ্রিলের পর থেকে অবিরাম বর্ষণে ধান ও গবাদিপশুর খাদ্য খড় পচে নষ্ট হওয়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন চাষিরা।

হাওরের উত্তর-পূর্বাংশের যারা বিআর-৯৬ ও বিআর-৮৬ জাতের আগাম ধান চাষ করেছিলেন, তারা বড় ধরনের জলাবদ্ধতার আগেই ফসল ঘরে তুলতে পেরেছেন। তবে হাইব্রিড ধান চাষিদের কপাল পুড়েছে। কৃষকদের অভিযোগ, হাইব্রিড ধান ভেজা অবস্থায় থাকলেই দ্রুত অঙ্কুর গজিয়ে যায়। ফলে বৃষ্টির কারণে ধান শুকাতে না পেরে ব্যাপক লোকসানের মুখে পড়েছেন তারা।

খরচার হাওরের দক্ষিণ-পশ্চিমাংশের নোয়াগাঁও, হরিনগর ও নল্লুয়াসহ নিচু এলাকায় জলাবদ্ধতার আঘাত ছিল সবচেয়ে বেশি। স্থানীয়দের দাবি, তাদের সিংহভাগ ধান পানির নিচে তলিয়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা জানান, ধান নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি খড় পচে যাওয়ায় গবাদিপশু নিয়েও তারা চরম সংকটে রয়েছেন। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য দ্রুত সরকারি পুনর্বাসনের দাবি জানিয়েছেন।

সুনামগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, জেলায় এখন পর্যন্ত প্রায় ২০ হাজার ১৬০ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উপ-পরিচালক মোহাম্মদ ওমর ফারুক জানান, জেলায় গড়ে প্রায় ৬৯ শতাংশ ধান কাটা শেষ হয়েছে। তবে কৃষকদের দাবি, সরকারি হিসাবের বাইরেও কাটা ও মাড়াই করা ধান নষ্ট হওয়ার প্রকৃত ক্ষতির পরিমাণ আরও অনেক বেশি। এখন তাদের একমাত্র দাবি—সহজ শর্তে ঋণ ও বীজ সহায়তা।

এ.আই.এল/সকালবেলা

মন্তব্য করুন