নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও মধ্যাঞ্চলে ভারি বৃষ্টিপাতের ফলে সাতটি প্রধান নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, আগামী তিন দিনে পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে, যার ফলে হাওর অঞ্চলের নিম্নাঞ্চল নতুন করে প্লাবিত হওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
সোমবার (৪ মে ২০২৬) প্রকাশিত বুলেটিন অনুযায়ী, বিভিন্ন পয়েন্টে নদীর পানি বিপৎসীমার আশঙ্কাজনক ওপর দিয়ে বইছে:
সুনামগঞ্জ: নালজুর নদী জগন্নাথপুর পয়েন্টে বিপৎসীমার ৪০ সেমি ওপরে।
নেত্রকোনা: মগরা নদী নেত্রকোনা পয়েন্টে ৭৯ সেমি এবং ভুগাই-কংস নদী জারিয়াঞ্জাইল পয়েন্টে ৬৭ সেমি ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সোমেশ্বরী নদী কলমাকান্দা পয়েন্টেও পানি বিপৎসীমার ৫০ সেমি ওপরে।
হবিগঞ্জ: সুতাং নদী রেলওয়ে ব্রিজ পয়েন্টে বিপৎসীমার ৮৩ সেমি ওপর দিয়ে বইছে।
সিলেট ও সুনামগঞ্জ: সুরমা-কুশিয়ারা নদীর পানি আগামী তিন দিন বাড়তে পারে। এর ফলে এই দুই জেলার হাওরসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে নতুন করে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।
নেত্রকোনা ও কিশোরগঞ্জ: ধনু-বাউলাই ও কংস নদীর পানি স্থিতিশীল থাকলেও নিম্নাঞ্চলে বর্তমান বন্যা পরিস্থিতি অব্যাহত থাকবে।
মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ: মনু, খোয়াই ও জুড়ি নদীর পানি আগামী ৪৮ ঘণ্টা স্থিতিশীল থাকলেও তৃতীয় দিনে তা দ্রুত বাড়তে পারে।
গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে হাতিয়ায় (১২৪ মিলিমিটার)। এছাড়া নেত্রকোনা (৭১ মিমি), মাইজদীকোর্ট (৪৮ মিমি) এবং সিলেটে (৪৩ মিমি) ভারি বর্ষণ হয়েছে। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় আগামী ২৪ ঘণ্টায় দমকা হাওয়াসহ মাঝারি থেকে ভারি বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে।
হাওর অঞ্চলে ইতিমধ্যে তলিয়ে গেছে কৃষকের সোনালি ফসল। নতুন করে পানি বাড়ার খবরে কৃষকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্থানীয় প্রশাসনকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
জান্নাত/সকালবেলা