ট্রাম্পের সামনে এখন দুটি বিকল্প: ইরান নিয়ে আইআরজিসির দাবি

রাকিবুল হাসান
প্রকাশ: রবিবার, ০৩ মে ২০২৬, ০৫:০০ অপরাহ্ণ
ট্রাম্পের সামনে এখন দুটি বিকল্প: ইরান নিয়ে আইআরজিসির দাবি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের সামনে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ ক্রমেই ফুরিয়ে আসছে বলে দাবি করেছে দেশটির অভিজাত সামরিক বাহিনী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) গোয়েন্দা শাখা। তাদের মতে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামনে এখন কেবল দুটি পথ খোলা রয়েছে—হয় একটি ‘অসম্ভব’ সামরিক অভিযানে নামা, না হয় ইরানের শর্ত মেনে একটি ‘খারাপ চুক্তি’ করা।

রোববার (৩ মে) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

আইআরজিসি জানিয়েছে, ইরানের সমুদ্রবন্দরগুলোর ওপর থেকে মার্কিন সামরিক অবরোধ প্রত্যাহারের জন্য তেহরানের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে একটি সুনির্দিষ্ট সময়সীমা (ডেডলাইন) বেঁধে দেওয়া হয়েছে। তবে এই সময়সীমাটি ঠিক কত তারিখ পর্যন্ত, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। তেহরানের দাবি, ওয়াশিংটনের একতরফা নীতির বিরুদ্ধে সম্প্রতি চীন, রাশিয়া এমনকি ইউরোপের অবস্থানের পরিবর্তন হচ্ছে, যা ইরানকে সুবিধাজনক অবস্থানে নিয়ে এসেছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে আইআরজিসি ওয়াশিংটনের বর্তমান পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করে বলেছে, “ডোনাল্ড ট্রাম্পকে এখন হয় একটি ‘অসম্ভব’ সামরিক অভিযান অথবা ইরানের সঙ্গে একটি ‘খারাপ চুক্তি’—এই দুটির মধ্যে যেকোনো একটিকে বেছে নিতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রের সামনে বিকল্প পথগুলো এখন সংকুচিত হয়ে এসেছে।”

বিশ্লেষকদের মতে, ‘অসম্ভব’ সামরিক অভিযান বলতে আইআরজিসি ইঙ্গিত দিয়েছে যে, ইরানের ভৌগোলিক ও সামরিক শক্তি বিবেচনায় ওয়াশিংটনের পক্ষে সরাসরি যুদ্ধ জয় অত্যন্ত ব্যয়বহুল ও কঠিন হবে। অন্যদিকে, ‘খারাপ চুক্তি’ বলতে বোঝানো হয়েছে এমন একটি সমঝোতা, যেখানে ট্রাম্প প্রশাসনকে ইরানের অনেক দাবি মেনে নিতে হতে পারে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার নির্বাচনী প্রচারণার সময় থেকেই ইরানের ওপর ‘সর্বোচ্চ চাপ’ প্রয়োগের নীতি অনুসরণের কথা বলে আসছিলেন। তবে তেহরানের এই সাম্প্রতিক আল্টিমেটাম এবং বৈশ্বিক শক্তির মেরুকরণ হোয়াইট হাউসকে নতুন করে চাপে ফেলবে বলে মনে করা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত আইআরজিসির এই দাবির প্রেক্ষিতে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

মন্তব্য করুন