নিজস্ব প্রতিবেদক: সাম্প্রতিক অতিবৃষ্টি ও আগাম পাহাড়ি ঢলে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য বিশেষ মানবিক সহায়তার ঘোষণা দিয়েছে সরকার। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে আগামী তিন মাস সরকারিভাবে সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করা হবে বলে জানিয়েছেন কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ।
রোববার (৩ মে) বিকেলে সচিবালয়ে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান। মূলত আসন্ন ঈদুল আজহার পশুর চাহিদা ও জোগান নিয়ে আয়োজিত এই সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী কৃষকদের এই সহায়তার কথা উল্লেখ করেন।
মন্ত্রী বলেন, “দেশের হাওরাঞ্চল আমাদের খাদ্য নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রাকৃতিক কারণে আকস্মিকভাবে পানি প্রবেশ করে কখনো কখনো ফসল ডুবে যায়। এটি সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক এবং সৃষ্টিকর্তার ওপর মানুষের নিয়ন্ত্রণ নেই। তবে যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, সরকার তাদের পাশে দাঁড়িয়েছে। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের আগামী তিন মাস সরকারিভাবে খাদ্য ও অন্যান্য সহায়তা দেওয়া হবে।”
হাওরের ধান কাটার বিষয়ে মন্ত্রী জানান, গত ১৫ দিন ধরে তিনি সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসক ও কৃষি কর্মকর্তাদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছেন। তিনি বলেন, “ইতোমধ্যে অনেক এলাকায় প্রায় ৮০ শতাংশ ধান কাটা সম্পন্ন হয়েছে। যেখানে শ্রমিকের সংকট ছিল, সেখানে আমরা অন্য জেলা থেকে শ্রমিক পাঠানোর ব্যবস্থা করেছি। এমনকি প্রয়োজনে ট্রাক ভাড়া করে জনবল সরবরাহ করা হয়েছে যাতে কৃষকরা দ্রুত ফসল ঘরে তুলতে পারেন।”
বেড়িবাঁধের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, যেসব এলাকায় স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণ করলে ফসল রক্ষা করা সম্ভব, সেসব প্রকল্পকে কৃষি মন্ত্রণালয় বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। ফসলহানির পরিমাণ খুব বেশি না হলেও একজন কৃষকও যাতে অভাবে না থাকেন, তা নিশ্চিত করা সরকারের লক্ষ্য।
সংবাদ সম্মেলনে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকুসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। ঈদুল আজহার প্রস্তুতির পাশাপাশি কৃষকদের এই বিশেষ সহায়তার ঘোষণা প্রান্তিক পর্যায়ে স্বস্তি বয়ে আনবে বলে আশা করা হচ্ছে।