কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কি আমাদের মেধাশক্তি কমিয়ে দিচ্ছে?

জান্নাতুল ফেরদৌস
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:২১ অপরাহ্ণ
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কি আমাদের মেধাশক্তি কমিয়ে দিচ্ছে?

ফিচার ডেস্ক: চ্যাটজিপিটির মতো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (AI) ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা আমাদের মস্তিষ্কের সৃজনশীল ও তথ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ অংশের সক্রিয়তা প্রায় ৫৫ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে দিচ্ছে। গবেষকরা এই ভয়াবহ অবস্থাকে বলছেন ‘কগনিটিভ সারেন্ডার’ বা বুদ্ধিবৃত্তিক আত্মসমর্পণ। প্রযুক্তি যখন মানুষের চিন্তার কাজগুলো নিজের কাঁধে তুলে নেয়, তখন তার মাশুল দিতে হয় মানুষের মস্তিষ্ককে।

গবেষণায় উঠে আসা ভয়াবহ চিত্র: ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজির (এমআইটি) গবেষক নাতালিয়া কসমিনা এক গবেষণায় ৫৪ জন শিক্ষার্থীকে প্রবন্ধ লিখতে দেন। গবেষণায় দেখা যায়:

  • মস্তিষ্কের স্তিমিত তরঙ্গ: যারা এআই ব্যবহার করে প্রবন্ধ লিখেছে, তাদের মস্তিষ্কের তরঙ্গ ছিল অত্যন্ত স্তিমিত। অন্যদিকে, যারা নিজের বুদ্ধিতে লিখেছে, তাদের মস্তিষ্ক ছিল অনেক বেশি সক্রিয়।

  • স্মৃতিশক্তির হ্রাস: এআই ব্যবহারকারীরা তাদের নিজেদের লেখা প্রবন্ধ থেকেও পরবর্তী সময়ে কোনো তথ্য মনে করতে পারেনি।

  • প্রাণহীন সৃজনশীলতা: বর্তমান সময়ে ইন্টার্নশিপ বা চাকরির আবেদনপত্রগুলো অত্যন্ত মার্জিত হলেও সেগুলো হয়ে পড়ছে প্রাণহীন ও যান্ত্রিক।

দীর্ঘমেয়াদী ঝুঁকি: বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ‘মানসিক আলস্য’ আমাদের স্মৃতিশক্তির জন্য বড় হুমকি। মস্তিষ্কের ‘গামা ওয়েভ’ বা গভীর চিন্তার সক্ষমতা কমে যাওয়া ভবিষ্যতে ডিমেনশিয়া বা স্মৃতিভ্রংশের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে। এটি অনেকটা জিপিএস ব্যবহারের ফলে মানুষের পথ চেনার সহজাত ক্ষমতা কমে যাওয়ার মতো।

বাঁচতে হলে ‘প্রোডাক্টিভ ফ্রিকশন’: গবেষকরা বলছেন, এআই পুরোপুরি ক্ষতিকর নয়, তবে এটি ব্যবহারের কৌশলে পরিবর্তন আনতে হবে। মস্তিষ্ককে সচল রাখতে ‘প্রোডাক্টিভ ফ্রিকশন’ বা সৃজনশীল বাধার প্রয়োজন। কোনো বিষয় শেখার শুরুতে এআই ব্যবহার না করে আগে নিজের মেধা প্রয়োগ করা উচিত। এআই-কে তথ্যের একমাত্র উৎস না বানিয়ে বরং এটিকে তথ্য সংগ্রহের একটি সাধারণ সরঞ্জাম হিসেবে ব্যবহার করাই বুদ্ধিমানের কাজ।

জান্নাত/সকালবেলা

মন্তব্য করুন