ট্রাভিস হেড নয়, গোটা অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষেই সেরাটা দিতে চান তাসকিন
ক্রীড়া ডেস্কঃ ব্যাট হাতে সাম্প্রতিক সময়ে অবিশ্বাস্য ছন্দে থাকা ট্রাভিস হেড জিতে নিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার মর্যাদাপূর্ণ বর্ষসেরা পুরস্কার 'অ্যালান বর্ডার মেডেল'। সদ্য সমাপ্ত অ্যাশেজে ৩টি দৃষ্টিনন্দন সেঞ্চুরিসহ ৬২৯ রান করা এই বিধ্বংসী বাঁহাতি ওপেনারকে শুরুতেই চেপে ধরার মূল দায়িত্বটা থাকবে বাংলাদেশ পেস আক্রমণের প্রধান অস্ত্র তাসকিন আহমেদের কাঁধে।
তবে অজি মাটিতে প্রথমবারের মতো লাল বলের ক্রিকেট খেলতে গিয়ে নির্দিষ্ট কোনো ব্যাটারকে নিয়ে আলাদা ভেবে নিজের ওপর অতিরিক্ত চাপ নিতে নারাজ ৩১ বছর বয়সী এই বাংলাদেশি স্পিডস্টার।
সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে তাসকিন জানান, ফর্মের চূড়ায় থাকা হেডকে থামাতে নিজের চেনা প্রক্রিয়া ও শক্তির জায়গাতেই ভরসা রাখবেন তিনি। তাসকিন বলেন, “কোনো সন্দেহ নেই ট্রাভিস হেড বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম সেরা ব্যাটার। তবে বাস্তবতা হলো, দিনশেষে খেলাটা কিন্তু সেই ব্যাট আর বলেরই। গত কয়েক বছর ধরে আমি যে নির্দিষ্ট লাইন-লেংথ ও প্রক্রিয়ায় সাফল্য পেয়ে আসছি, মাঠে ঠিক সেটাই অনুসরণ করব। কাজটা সহজ হবে না নিশ্চিত, তবে সঠিক প্রক্রিয়ায় থেকে দেখা যাক শেষ পর্যন্ত কী ঘটে।”
শুধু ট্রাভিস হেড একা নন, সাম্প্রতিক সময়ে ঘরের মাঠে শক্তিশালী বিশ্বজয়ী অস্ট্রেলিয়ার সব ব্যাটারের জন্যই আলাদা গেমপ্ল্যান তৈরি করছে দলের টেকনিক্যাল ইউনিট। তাসকিনের মতে, “ম্যাচের দিন কন্ডিশন ও পিচ কেমন আচরণ করে, সেটির ওপর অনেক কিছু নির্ভর করবে। প্রতিটি ব্যাটারের জন্যই আমাদের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা থাকবে। তবে দিনশেষে পরিকল্পনা মাঠে কতটা নিখুঁতভাবে বাস্তবায়ন করতে পারছি, সেখানেই আসল খেলা। অজিদের সমকক্ষ হিসেবে লড়াই চালাতে হলে আমাদের সেরা মানের ক্রিকেট উপহার দিতে হবে।”
দীর্ঘ ২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে সাদা পোশাকে দুই টেস্টের সিরিজ খেলার সুযোগ পেয়েছে বাংলাদেশ দল। ক্যাঙ্গারুর দেশে স্বাগতিকদের বিপক্ষে টেস্টের মঞ্চে প্রতিনিধিত্ব করার অনুভূতিকে ক্যারিয়ারের অন্যতম বিশেষ মুহূর্ত হিসেবে দেখছেন এই ডানহাতি পেসার।
তাসকিন উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন, “অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তাদের নিজেদের মাটিতে টেস্ট সিরিজ খেলতে আসাটা আমাদের সবার জন্যই অনেক বড় সম্মানের। বিশ্ব ক্রিকেটে অজিরা নিঃসন্দেহে অন্যতম সেরা শক্তি। এই মাঠে দেশের হয়ে লাল বলে লড়াই করা প্রতিটি খেলোয়াড়ের জন্য গর্বের। ম্যাচগুলো আমাদের জন্য মোটেও সহজ হবে না, তবে আমরা আমাদের সেরাটা উজাড় করে দিয়ে একটি স্মরণীয় সিরিজ উপহার দিতে চাই।”
আগামী ১৩ আগস্ট ডারউইনে প্রথম টেস্টের মধ্য দিয়ে শুরু হবে বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়ার মধ্যকার ঐতিহাসিক এই সিরিজ। পরবর্তীতে ২১ আগস্ট থেকে দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টটি অনুষ্ঠিত হবে ম্যাকাইতে।
|