১০ জনের ইংল্যান্ডের কাছে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিল মেক্সিকো
স্পোর্টস ডেস্ক: ম্যাচের ৫৪ মিনিটে লাল কার্ড দেখে একজন ডিফেন্ডার মাঠ ছাড়ায় সমতায় ফেরার এক দারুণ ও সোনালী সুযোগ তৈরি হয়েছিল মেক্সিকোর সামনে। কিন্তু ঘরের মাঠের চেনা আঙিনায় এবং গ্যালারিভর্তি দর্শকের সেই অবিশ্বাস্য সুযোগটি কোনোভাবেই কাজে লাগাতে পারল না স্বাগতিকরা। আর তার ফলে যা হওয়ার তাই হলো; ১০ জনের ইংলিশদের রক্ষণভাগ ভাঙতে না পারার চরম মাশুল দিয়ে ফুটবল বিশ্বকাপ থেকে চোখের জলে বিদায় নিলো মেক্সিকো। মেক্সিকো সিটির ঐতিহাসিক এস্তাদিও আজতেকা স্টেডিয়ামে আজ তীব্র উত্তেজনাপূর্ণ ও নাটকীয় ম্যাচে মেক্সিকোকে ৩-২ ব্যবধানে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করেছে ইংল্যান্ড।
ইংল্যান্ডের এই মহাকাব্যিক জয়ের মহানায়ক রিয়াল মাদ্রিদ তারকা জুড বেলিংহাম; যিনি করেছেন দুর্দান্ত এক জোড়া গোল। দলের হয়ে অন্য গোলটি পেনাল্টি থেকে করেছেন অভিজ্ঞ অধিনায়ক হ্যারি কেইন। অন্যদিকে, মেক্সিকোর হয়ে জুলিয়ান কুইনোনেস এবং রাউল হিমিনেজ জালের দেখা পেলেও তা দলকে হারের গ্লানি থেকে বাঁচাতে পারেনি। ইংল্যান্ডের শেষ আট নিশ্চিত হওয়ার আগে আজ সকালে ফুটবল বিশ্ব এক চরম নাটকীয় ও হাইভোল্টেজ ম্যাচ উপভোগ করেছে।
ম্যাচের বয়স যখন আধা ঘণ্টার বেশি পেরিয়ে গেছে, তখনও কোনো দলই গোলের দেখা পায়নি। কিন্তু ম্যাচের ৩৬ থেকে ৩৮—এই মাত্র ২ মিনিটের অবিশ্বাস্য ঝড়ে হঠাৎ করেই জোড়া গোল গোল দেখল ফুটবল বিশ্ব। যেন কোনো লাইভ ম্যাচ নয়, বরং মাঠের ভেতর হাইলাইটস চলছিল! আর সেই চোখ ধাঁধানো হাইলাইটসের কেন্দ্রীয় চরিত্র ছিলেন জুড বেলিংহাম। ম্যাচের ৩৬ মিনিটে ডান প্রান্ত থেকে বুকায়ো সাকার নিখুঁত এক ক্রসে লাফিয়ে উঠে দর্শনীয় হেডে প্রথম গোলটি করেন ইংল্যান্ডের এই তরুন মিডফিল্ডার।
সেই গোলের রেশ কাটতে না কাটতেই ঠিক দুই মিনিটের মাথায় (৩৮ মিনিটে) আবারও মেক্সিকোর জালে বল পাঠান রিয়াল মাদ্রিদের এই সেনসেশন। এবারও অ্যাসিস্টের ভূমিকায় ছিলেন বুকায়ো সাকা। বেলিংহামের এই জোড়া গোলে মুহূর্তের মধ্যে স্তব্ধ হয়ে যান স্বাগতিক মেক্সিকোর হাজার হাজার সমর্থক। তবে ঘরের মাঠে ম্যাচে ফিরতে খুব বেশি সময় নেয়নি মেক্সিকো। প্রথমার্ধের ঠিক শেষ মুহূর্তে (৪২ মিনিটে) কাউন্টার অ্যাটাক থেকে দুর্দান্ত এক গোল করে পুরো গ্যালারিকে উল্লাসে উজ্জ্বীবিত করেন মেক্সিকান ফরোয়ার্ড কুইনোনেস। ফলে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় ইংল্যান্ড।
বিরতির পর ম্যাচের ৫৪ মিনিটে মেক্সিকোর পক্ষে একটি বড় সিদ্ধান্ত আসে। মেক্সিকোর ডিফেন্ডার জেসুস গ্যালার্দোকে ইংলিশ ডিফেন্ডার জ্যারল কুয়েনশা মারাত্মক ফাউল করলে ভিএআরের (VAR) দীর্ঘ পরীক্ষা শেষে রেফারি কুয়েনশাকে সরাসরি লাল কার্ড দেখিয়ে মাঠ থেকে বের করে দেন। ফলে ম্যাচের বাকি দীর্ঘ সময় ১০ জনের দলে পরিণত হয় ইংল্যান্ড।
কিন্তু প্রতিপক্ষের একজন খেলোয়াড় কম থাকার সেই বহুল প্রতীক্ষিত কৌশলগত সুবিধা মোটেও নিতে পারেনি মেক্সিকো। উল্টো ১০ জন নিয়ে খেলতে থাকা ইংল্যান্ড ম্যাচের ৬০ মিনিটে পেনাল্টি থেকে আরও একটি গোল আদায় করে নেয়। সফল স্পটকিক থেকে মেক্সিকোর জাল কাঁপান হ্যারি কেইন (৩-১)। অবশ্য এর নয় মিনিট পর (৬৯ মিনিটে) ম্যাচে ফেরার পেনাল্টি সুযোগ পায় মেক্সিকোও। পেনাল্টি থেকে নিখুঁত শটে গোল করে ব্যবধান ৩-২ করেন রাউল হিমিনেজ। তবে ম্যাচের বাকি সময়ে ইংল্যান্ডের রক্ষণভাগ আর ভাঙতে পারেনি মেক্সিকো। ফলে ১০ জনের ইংল্যান্ডকে পেয়েও সমতায় ফিরতে না পারার চরম হতাশা নিয়ে ঘরের মাঠ থেকেই বিদায় নিতে হলো আসরের অন্যতম সহ-আয়োজকদের।
|