শোডাউন করা ছাত্রদল নেতা বহিষ্কার

শোডাউন করা ছাত্রদল নেতা বহিষ্কার

আরিফুল ইসলাম, নাটোর: দেশজুড়ে চলমান জ্বালানি সংকটের মধ্যে অর্ধশতাধিক গাড়ির বহর নিয়ে শোডাউন করার দায়ে নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলা ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক মাসুদ রানা প্রামাণিককে দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। 

সোমবার (১৩ এপ্রিল) কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের পক্ষ থেকে এই সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত এক পত্রে জানানো হয়, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগে মাসুদ রানাকে তাঁর পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে নিজের প্রার্থিতা জানান দিতে গত রোববার (১২ এপ্রিল) গুরুদাসপুর পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ থেকে মাসুদ রানার নেতৃত্বে একটি বিশাল শোডাউন বের করা হয়। প্রায় ৫০টি মাইক্রোবাস ও গাড়ির বহরে অন্তত ৪০০ নেতাকর্মী অংশ নেন। বহরটি উপজেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে পৌর শহরের চাঁচকৈড় বাজারে গিয়ে শেষ হয়।

বিশাল এই শোডাউনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে শুরু হয় তীব্র সমালোচনা। বর্তমান সংকটের সময়ে এমন বিলাসিতা এবং বিপুল পরিমাণ জ্বালানি খরচ নিয়ে সাধারণ মানুষ ক্ষোভ প্রকাশ করেন। স্থানীয় একটি মাইক্রোবাস সমিতির সদস্যের তথ্যমতে, প্রতিটি গাড়ির গড় ভাড়া ৫ হাজার টাকা হিসেবে এই শোডাউনে অন্তত আড়াই লক্ষ টাকা ব্যয় করা হয়েছে।

এ বিষয়ে মাসুদ রানা প্রামাণিক ৫০টি গাড়ি ব্যবহারের কথা স্বীকার করলেও ব্যয়ের উৎস নিয়ে মুখ খোলেননি। তবে এক ফেসবুক লাইভে তিনি দাবি করেন, বহরের অধিকাংশ গাড়ি এলপিজি ও সিএনজিচালিত ছিল।

নাটোর জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মারুফ ইসলাম সৃজন জানান, বিষয়টি কেন্দ্রীয় সংসদের নজরে আসার পরপরই কঠোর সাংগঠনিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে তাঁকে তাৎক্ষণিক অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। সচেতন মহলের মতে, সংকটের সময় দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের এমন প্রদর্শনমূলক কর্মকাণ্ড সাধারণ মানুষের মাঝে নেতিবাচক বার্তা দেয়।

এ.আই.এল/সকালবেলা

মন্তব্য করুন