মুচলেকা দিয়ে মুক্তি পেলেন তালাবদ্ধ শিক্ষকরা

প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২৬, ১২:২১ অপরাহ্ণ
মুচলেকা দিয়ে মুক্তি পেলেন তালাবদ্ধ শিক্ষকরা
শেরপুর সদর উপজেলার রামেরচর হাই স্কুলের শিক্ষকদের অফিসে তালা ঝুলিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা (ফাইল ছবি)।

 সদ্য ঘোষিত ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফলে চরম বিপর্যয় ঘটার জের ধরে শেরপুর সদর উপজেলার রামেরচর হাই স্কুলের ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা শিক্ষকদের নিজ কার্যালয়ের ভেতর আটকে রেখে বাইরে থেকে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছেন।

পরবর্তীতে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে উত্তপ্ত পরিস্থিতি শান্ত করে এবং শিক্ষকদের কাছ থেকে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের পরবর্তী পরীক্ষার যাবতীয় খরচ বহন সংক্রান্ত লিখিত মুচলেকা গ্রহণের পর তাঁদের অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে উদ্ধার করা হয়।

গতকাল সোমবার (১০ আগস্ট) শেরপুর সদর উপজেলার ১১ নম্বর বলাইরচর ইউনিয়নের রামেরচর হাই স্কুল প্রাঙ্গণে এই নজিরবিহীন ও চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৬ সালে অনুষ্ঠিত এসএসসি পরীক্ষায় অত্র বিদ্যালয়টি থেকে বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা—তিনটি বিভাগে মোট ৭৮ জন শিক্ষার্থী অংশ নিয়েছিল। কিন্তু সোমবার প্রকাশিত ফলাফলে দেখা যায়, তাদের মধ্যে পাস করেছে মাত্র ২১ জন শিক্ষার্থী।

অভিযোগ উঠেছে, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের কোনো শিক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি এবং বিজ্ঞান বিভাগের মোট ৪৩ জন পরীক্ষার্থী ফেল করেছে। ফলাফলের এই ভয়াবহ চিত্র দেখতে পেয়ে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা একজোট হয়ে স্কুলে এসে বিক্ষোভ শুরু করেন এবং একপর্যায়ে অফিসে থাকা শিক্ষকদের ঘরের ভেতরে আটকে বাইরে থেকে তালা লাগিয়ে দেন।

শিক্ষার্থী ও স্থানীয় অভিভাবকদের গুরুতর অভিযোগ, রামেরচর হাই স্কুলে নিয়মিত শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালিত হয় না। অধিকাংশ শিক্ষকই নির্দিষ্ট সময়ে স্কুলে আসেন না এবং শিক্ষকদের সার্বিক দায়িত্বহীনতা ও গাফিলতির কারণে প্রতি বছরই এই প্রতিষ্ঠান থেকে বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হচ্ছে।

ঘটনার খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে শেরপুর সদর থানা পুলিশ টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে ক্ষুব্ধ অভিভাবকদের সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী আলোচনায় বসে। অবশেষে শিক্ষকদের পক্ষ থেকে একটি অফিসিয়াল লিখিত অঙ্গীকারপত্র প্রদানের মাধ্যমে অবরুদ্ধ শিক্ষকদের মুক্ত করা সম্ভব হয়।

প্রদানকৃত লিখিত অঙ্গীকারপত্রে শিক্ষকরা সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, চলতি বছর পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়া সমস্ত শিক্ষার্থীর বোর্ড চ্যালেঞ্জ (খাতা পুনঃনিরীক্ষণ)-এর প্রয়োজনীয় ফি এবং আগামী ২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষায় পুনরায় অংশ নেওয়ার ফর্ম পূরণের যাবতীয় খরচ তারা কোনো সরকারি অনুদান ছাড়াই সম্পূর্ণ নিজেদের ব্যক্তিগত অর্থায়নে বহন করবেন।

এ ব্যাপারে শেরপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোহেল রানা জানান, প্রাথমিক উত্তপ্ত পরিস্থিতি পুলিশ নিয়ন্ত্রণে এনে শিক্ষকদের নিরাপদ উদ্ধার করেছে এবং পরবর্তীতে উভয় পক্ষের সম্মতিতে সমঝোতা নথি স্বাক্ষরিত হয়েছে।

অন্যদিকে শেরপুর সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা চান মিয়া বলেন, “বিষয়টি সম্পর্কে মৌখিকভাবে জেনেছি। তবে এখন পর্যন্ত স্কুল কর্তৃপক্ষ বা অবরুদ্ধ শিক্ষকদের পক্ষ থেকে কোনো লিখিত অভিযোগ করা হয়নি। সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ জমা পড়লে তদন্তপূর্বক নিয়মানুযায়ী প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

মন্তব্য করুন