রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ২০২৬: প্রস্তুতি নিয়ে সংসদ ভবনে ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের বৈঠক

প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২৬, ০১:৪৯ অপরাহ্ণ
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ২০২৬: প্রস্তুতি নিয়ে সংসদ ভবনে ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের বৈঠক
২০ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচন উপলক্ষে জাতীয় সংসদ ভবনে ইসি ও সংসদ সচিবালয়ের প্রস্তুতিমূলক বৈঠক (ফাইল ছবি)।

নিজস্ব প্রতিবেদক: আগামী ২০ আগস্ট অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সামনে রেখে সার্বিক ও সুনির্দিষ্ট প্রস্তুতি পর্যালোচনার উদ্দেশ্যে জাতীয় সংসদ ভবনে এক গুরুত্বপূর্ণ উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বসেছেন জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামাল।

আজ মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) বেলা ১১টা থেকে ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এই প্রস্তুতিমূলক সমন্বয় সভায় নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয় ও জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের শীর্ষ স্থানীয় কর্মকর্তারা অংশ নেন।

সংসদ সচিবালয় ও নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচনে ভোটগ্রহণের সার্বিক নিরাপত্তা, প্রিসাইডিং অফিসার নিয়োগ, সংসদকক্ষে ব্যালট বাক্সে ভোটদানের সুনির্দিষ্ট নিয়মাবলি এবং সার্বিক ব্যবস্থাপনা সম্পর্কিত কারিগরি দিকগুলো বৈঠকে চূড়ান্ত করা হয়। এই নির্বাচনের প্রধান নির্বাচনী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন।

নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, আগামী ১৩ আগস্ট আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনয়নপত্র জমা নেওয়া হবে। একাধিক বৈধ প্রার্থী থাকলে আগামী ২০ আগস্ট দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত জাতীয় সংসদকক্ষে সরাসরি গোপন ব্যালটে ভোটগ্রহণ পরিচালিত হবে।

রাষ্ট্রপতি পদে ইতিমধ্যে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় জাতীয় নির্বাচনী জোটের পক্ষে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদকে প্রার্থী হিসেবে নাম ঘোষণা করা হয়েছে। অন্যদিকে সংখ্যাগরিষ্ঠ দল বিএনপি থেকে মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের প্রার্থিতা প্রায় চূড়ান্ত হলেও শিগগিরই দলীয়ভাবে আনুষ্ঠানিক নাম ঘোষণা করা হবে বলে জানা গেছে।

নির্বাচনী বিশ্লেষকরা জানান, শেষ পর্যন্ত বিএনপি ও বিরোধী জোটের একাধিক প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বহাল থাকলে ১৯৯১ সালের সংসদীয় ব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তনের পর দীর্ঘ ৩৫ বছর পর এটিই হবে সংসদকক্ষে সরাসরি ভোটাভুটির মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের দ্বিতীয় ঘটনা। এর আগে ১৯৯১ সালে তৎকালীন ক্ষমতাসীন বিএনপির আবদুর রহমান বিশ্বাস বিরোধী প্রার্থী বিচারপতি বদরুল হায়দার চৌধুরীকে হারিয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন। বিগত সাতটি রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সবসময়ই ক্ষমতাসীনদের একক প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ায় এবার ভোট নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে বাড়তি আমেজ সৃষ্টি হয়েছে।

মন্তব্য করুন