বিশ্বের সবচেয়ে কঠিন দুই পরীক্ষা: চীন ও দক্ষিণ কোরিয়ার গাওকাও এবং সুনেওং

প্রকাশ: সোমবার, ১০ আগস্ট ২০২৬, ০৮:০৮ অপরাহ্ণ
বিশ্বের সবচেয়ে কঠিন দুই পরীক্ষা: চীন ও দক্ষিণ কোরিয়ার গাওকাও এবং সুনেওং

বিশ্বের সর্বাপেক্ষা কঠিন, জটিল এবং তীব্র প্রতিযোগিতাপূর্ণ শিক্ষাগত পরীক্ষার প্রসঙ্গ এলেই আন্তর্জাতিক মানচিত্রে সবার আগে উঠে আসে এশিয়ার দুই অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত পরাশক্তি—চীন এবং দক্ষিণ কোরিয়ার নাম। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসি, সিএনএন, দ্য গার্ডিয়ান এবং নিউইয়র্ক টাইমসের বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, এসব দেশের শিক্ষার্থীদের একাডেমিক পরীক্ষা কেবল মেধা যাচাইয়ের মাধ্যম নয়, বরং টিকে থাকার এক মহা জীবনসংগ্রাম।

বিবিসির বিশ্লেষণে স্থান পেয়েছে চীনের বহুল আলোচিত ও কঠোর ‘গাওকাও’ (Gaokao) পরীক্ষা। দেশটির কোটি কোটি তরুণ শিক্ষার্থীর কাছে এটি জীবনের সবচেয়ে বড় মাইলফলক। একটিমাত্র পরীক্ষায় ভালো ফলের আশায় শিক্ষার্থীরা বছরের পর বছর ধরে দৈনিক ১২ থেকে ১৪ ঘণ্টা পর্যন্ত পড়ার টেবিলে অতিবাহিত করে। চিনা পরিবার ও সামাজিক কাঠামোর মতে, এই একটি পরীক্ষার সাফল্য বা ব্যর্থতাই নির্ধারণ করে দেয় শিক্ষার্থীর পুরো ভবিষ্যৎ জীবনের সামাজিক অবস্থান।

অন্যদিকে, সিএনএন ও দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে দক্ষিণ কোরিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির ‘সুনেওং’ (Suneung) পরীক্ষাকে বিশ্বের অন্যতম নিষ্ঠুরতম একাডেমিক যুদ্ধ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। এই পরীক্ষার দিন পুরো দক্ষিণ কোরিয়ার প্রশাসনিক ও সামাজিক জীবনধারা প্রায় থমকে দাঁড়ায়। পরীক্ষার্থীরা যাতে সময়মতো নির্ভয়ে কেন্দ্রে পৌঁছাতে পারে, সে জন্য রাস্তায় বিশেষ পুলিশ স্কোয়াড মোতায়েন করা হয় এবং সরকারি ও বেসরকারি অফিসের সময়সূচি পিছিয়ে দেওয়া হয়। এমনকি ইংরেজি লিসেনিং (শোনা) পরীক্ষার নির্ধারিত সময়ে যেন বিন্দুমাত্র শব্দ দূষণ না হয়, সেজন্য দেশটির আকাশপথে বিমান ওঠানামা ও টেক-অফ সাময়িকভাবে সম্পূর্ণ স্থগিত রাখা হয়।

নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে আক্ষেপ প্রকাশ করে বলা হয়, চীন ও দক্ষিণ কোরিয়ার লাখ লাখ কোমলমতি শিশুর শৈশব ও কৈশোর কেটে যায় তীব্র মানসিক চাপ, অনবরত কোচিং এবং চরম উৎকণ্ঠার মধ্য দিয়ে। বিশ্ব গণমাধ্যমগুলোর মতে, মেধা যাচাইয়ের এই নির্মম ইঁদুরদৌড় বিশ্ব রাজনীতির অন্য কোনো প্রান্তে দেখা যায় না।

মন্তব্য করুন